বরিশালের ঘটনায় সেই সমঝোতা বৈঠকে মামলা নিয়ে কথা হয়নি

বরিশালে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা ব্যানার অপসারণ করতে গিয়ে ইউএনও’র সঙ্গে সংঘাতময় পরিস্থিতি, আনসারদের গুলি, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা গুলিবিদ্ধ এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা নিরসনে রোববার (২২ আগস্ট) রাতে ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে। তবে ইউএনও এবং পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলায় গ্রেপ্তার ২২ নেতা-কর্মী এবং গুলিবিদ্ধদের চিকিৎসার বিষয়ে ওই বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি।

সোমবার (২৩ আগস্ট) বরিশাল নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর একাত্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ইউএনও’র দেহরক্ষী আনসারদের গুলিতে আহত এবং গ্রেপ্তার হওয়া নেতা কর্মীদের বিষয়ে দলীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মামলার প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর বলেন, আইনি বিষয় আইনগতভাবে সমাধান হবে।

এদিকে নগর আওয়ামী লীগের সদস্য প্যানেল মেয়র ও আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন এবং সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালাদারের দায়ের করা মামলার আবেদন দুটি আদালতের বিচারক পিবিআইকে তদন্তে দিয়েছেন। এবিষয় কোন পথে যাবে সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি বলে জানান জাহাঙ্গীর।

রোবরার (২২ আগস্ট) রাতে বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত থাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুচ বলেন, সরকারের এবং তাদের দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংঘাত নিরসনে তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বৈঠক করেছিলেন।

সেদিনের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ১৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভির আহসানের মা বলেন, ছেলে রাজধানীর জাতীয় চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার ডান চোখ চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। 

এদিকে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তার মামলার আবেদনের আইনজীবী অ্যাড. দিলীপ কুমার ঘোষ জানান, সমঝোতা হলে বাদি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন আর পুলিশের মামলা তদন্তের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বাতিল করতে পারে। 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইউএনও এবং পুলিশের দায়ের করা মামলায় নামে-বেনামে ছয়শ’ লোকের নামে মামলা হলে রোববার রাতের বৈঠকের পর আর কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।

আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারি মধ্যে ৮ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

উল্লেখ্য, ইউএনও’র বাসায় হামলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিরসনে বরিশালের জেলা প্রশাসন এবং সিটি কর্পোরেশন গত রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে। 

রাত সোয়া ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান, পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুচ, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি কেএম জাহাঙ্গীর, জেলা প্রশাসক জসীমউদ্দীন হায়দার, পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন। 


একাত্তর/এসি