বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, হাসপাতালে শয্যা সঙ্কট

বরিশাল বিভাগে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও চিকিৎসা সুবিধা বাড়ছে না। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, স্যালাইন সরবরাহ এখন কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখনও বরিশাল মেডিকেলে ডেঙ্গুর টেস্ট করতে হচ্ছে বাইরে থেকে। প্রতিটি হাসপাতালে রয়েছে শয্যা সঙ্কট। 

শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪১ জন। এর মধ্যে ৬৮ জনই বরগুনা জেলার। চলতি বছর বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৪৬। এর মধ্যে শুধু বরগুনা জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭০০ জন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪৫৪। এর মধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ৩৪ জন ভর্তি আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনা জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৮ জন, বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭, বরিশাল সদর হাসপাতালে ১০, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪, ভোলায় ৩ ও পিরোজপুরে ৯ জন। ঝালকাঠিতে নতুন করে কেউ ভর্তি হননি।

গেল ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে চলতি বছরে শেরেবাংলা মেডিকেলে পাঁচ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছে একশ ছ’জন রোগী। স্যালাইন সরবরাহ স্বাভাবিক। তবে টেস্ট করাতে হচ্ছে বাইরে থেকে। আর, হাসপাতালে রয়েছে বেডের সংকট। 

পটুয়াখালীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। এর মধ্যে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু শনাক্তের হার সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া সকল উপজেলায় কমবেশি রোগী রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন ২৪জন শনাক্তসহ বর্তমানে মোট ভর্তি রয়েছে ৬৭ জন। এরমধ্যে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৮ জন ও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন ভর্তি রয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেবে, চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছে ৫৯৫ জন। পটুয়াখালী হাসপাতালে এখনো পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়নি। মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের।  

বরগুনায় নতুন করে ৭৬ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে ভর্তি রোগের সংখ্যা ১৫৪ জন। জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২৮৫৫ জন। জেলার সিভিল সার্জন জানান, বরগুনা সদরের পাশাপাশি পাথরঘাটা বেতাগীসহ উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। 

বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে রোগীরা মেঝে, করিডর ও সিঁড়ির পাশে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পা রাখার জায়গাটুকুও নেই হাসপাতালে। হাসপাতাল ছাড়াও বিভিন্ন বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক রোগী। অবস্থার অবনতি হলে কেউ কেউ যাচ্ছেন বরিশাল কিংবা ঢাকায়।