পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের মরাভোলা এলাকা থেকে ৩০ জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুইদিনে অপহরণ করা এসব জেলেদের বনের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে। জেলেদের কাছ থেকে মহাজনের মোবাইল নম্বর নিয়ে ফোন করে মুক্তিপণের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মহাজনদের অনেকেই চাঁদার টাকা পাঠিয়ে জেলেদের ছাড়িয়ে আনতে চেষ্টাও চালাচ্ছেন।
এ ঘটনায় শরণখোলার দুই সহস্রাধিক জেলের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অপহরণ ও নির্যাতনের ভয়ে অনেক জেলে নৌকা নিয়ে শরণখোলা স্টেশন অফিস এলাকায় অবস্থান করছেন। দস্যুদের ভয়ে বনের প্রবেশের সাহস পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলে ও মহাজন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলেরা জানান, গত (১ অক্টোবর) বুধবার রাতে মরা ভোলা, আলী বান্দা, ধঞ্চেবাড়ীয়া, দুধমুখী এলাকার খালে থাকা জেলেদের উপর হঠাৎ হামলে পড়ে ২০ থেকে ২৫ সদস্যের একটি বনদস্যু দল। সশস্ত্র দস্যুদলটি অন্তত আটটি নৌকার আটজন জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে। পরের দিন তারা আরও প্রায় ১৮ জেলেকে একইভাবে অপহরণ করে বনের মধ্যে আটকে রাখে।
আটক জেলেদের মধ্যে উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলামের নাম জানা গেলেও বাকিদের নাম জানা যায়নি। তবে অপহৃত অধিকাংশ জেলের বাড়ি শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। অপহৃতদের মধ্যে বাগেরহাট সদর ও রামপালের জেলেরাও রয়েছেন।
জেলেরা আরও জানান, দস্যুরা সুন্দরবনের কুখ্যাত শরিফ বাহিনীর সদস্য এবং তাদের হাতে বন্দুকসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। তারা একটি ট্রলার ও দুইটি নৌকায় একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে দস্যুকার্যক্রম পরিচালনা করছে। দস্যুরা পূর্ব সুন্দরবনের ভোলা নদীর বিমলার খাল, দুধমুখী, হরিণটানা ও শালা নদীকে তাদের চলাচলের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।
সম্প্রতি উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে জেলে আফিকুল এবং একই গ্রামের শহীদ হোসেনের ছেলে সোহেল ১৫ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দিয়ে দস্যুদের কাছ থেকে বাড়ি ফিরে আসে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের (ভিটিআরটি) স্থানীয় ফেসিলিটেটর মো. আলম হাওলাদার জানান, শরণখোলা রেঞ্জে বেশ কয়েক বছর ধরে বনদস্যুদের অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি কিন্তু গত কয়েকদিনে বনদস্যুদের তাণ্ডব ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। মুক্তিপণের দাবিতে সাধারণ জেলেদের তুলে নিয়ে আটকিয়ে রাখা হচ্ছে। বনের দস্যু দমনে দ্রুত কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও বন বিভাগের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা দরকার।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহীদুল্লাহ জানান, পূর্ব সুন্দরবনের শরনখোলা রেঞ্জের দস্যুতার খবর তিনি লোক মুখে শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরনখোলা রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, বনরক্ষীদের নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দস্যুদের অপতৎপরতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দস্যু দমনে অচিরেই কম্বিং অপারেশন শুরু করা হবে।