শরিয়তপুরে বাড়তে শুরু করেছে পদ্মার পানি। রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় শরীয়তপুরের সুরেশ্বর পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয়দের তথ্যমতে, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রবল স্রোতে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। জেলার জাজিরা উপজেলার পালেরচর, বড়কান্দি ও জাজিরা ইউনিয়নের নদীর পাড় এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়াও, নদীর তীরের নিচু এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। ভাঙন ঠেকাতে পদ্মা, মেঘনা ও কীর্তিনাশা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
এছাড়াও, জাজিরা উপজেলার নদী ভাঙন কবলিত দুর্গম এলাকা কুন্ডেরচরে ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা প্রদান করেছেন জেলা প্রশাসক। ১৪২ টি পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে ২ হাজার টাকার চেক ও ২০ কেজি করে চালের বস্তা।
এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। আর ৫ সেন্টিমিটার পানি কমে এখন বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলার নদী তীরবর্তী ১৩ টি ইউনিয়নের ৬৭ টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পরেছেনর ১০ হাজার পরিবারের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।
তবে জেলা ত্রান ও পুর্নবাসন কর্মকতা মো. আরিফুল হক জানান, ইতোমধ্যে জেলায় পানিবন্দি মানুষের মাঝে ১০ মেট্টিক টন চাল ও দুই লক্ষ টাকা নগদ দেয়া হয়েছে।
উজানের পানি নেমে আসায় মুন্সীগঞ্জের পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে টংগিবাড়ি উপজেলার হাসাইল বানারী ইউনিয়নের আটিগাঁও, মান্ডা, নগর জোয়ার ও বানারীসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজার খানেক পরিবারের ঘরবাড়ি।
আর এতে পানিবন্দি হয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। খাদ্য ও পানির সংকটে পড়েছে বানবাসী মানুষেরা। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে লৌহজংয়ের কলমা ইউনিয়নের বেশ কিছু বাড়ি ঘর। আর বেজগাঁও ইউনিয়নে বানের পানিতে তলিয়ে গেছে বেশ কিছু রাস্তা ঘাট।
জামালপুরে গত ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ৩৬ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমার সাথে সাথে ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। আর যার কারণে পরিবারগুলো বিভিন্ন সড়ক বাঁধে ও বিভিন্নস্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
চলতি এক সপ্তাহের বন্যায় ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নের জিগাতলা, বেড়কুশা গ্রামের দুই শতাধিক বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বেলগাছার মুনিয়ার ৮টি, সিরাজাবাদ গ্রামের ৫টি ও চরপুটিমারীতে ৫টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে।
সরকারি হিসেবে, জেলায় ৪৭৫টি বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়াও ১৩২টি বসতবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরির্বতিত রয়েছে। ধরলা ও ব্রক্ষপুত্র নদীর পানি কিছুটা কমলেও ধরলা ও তিস্তা অববাহিকায় প্রচন্ড ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিনশোর মতো গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ এখনও পানিবন্দি। দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট।
ধরলার পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা অববাহিকার কিংছিনাই, জয়কুমোর ও বড়াইবাড়ী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ২৪ ঘন্টায় প্রায় ৪০টি ঘর-বাড়ী ধরলার পানির স্রোতে ভেসে গেছে। তবে ব্রক্ষপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ৪ সে.মি.নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।