পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল বিতরণের সময় জনপ্রতি ১০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের ৩৩৫ জন জেলের কাছ থেকে মোট ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারি গুদাম থেকে চাল পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচের অজুহাতে স্থানীয় জেলেরা এই অর্থ দিতে বাধ্য হয়েছেন।
ইউনিয়নের জেলেদের সভাপতি মো. আলম মিয়া এই টাকা সংগ্রহের বিষয়টি সমন্বয় করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জলাবাড়ী ইউনিয়নের ভুক্তভোগী জেলে সোহাগ খান অভিযোগ করে বলেন, চাল দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। আমি নিজে যেতে না পেরে ছেলেকে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাকে চাল দেয়নি। অথচ টাকা ঠিকই নেওয়া হয়েছে।
আরেক জেলে মো. রিয়াজ হোসেন অবশ্য এই আদায়কে ‘খরচ’ হিসেবে দেখছেন। বলেন, গুদাম থেকে চাল আনা, লেবার খরচ এবং যারা বিতরণ করেন তাদের আপ্যায়ন বাবদ এই টাকা দেওয়া হয়েছে।
টাকা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে জেলেদের সভাপতি মো. আলম মিয়া বলেন, গুদাম থেকে পরিষদ পর্যন্ত চাল আনতে কিছু খরচ আছে। সেই আনুষঙ্গিক খরচের জন্যই জেলেপ্রতি ১০০ টাকা তোলা হয়েছে। টাকাগুলো পরিষদের সচিবকে দেওয়ার জন্য আমাদের সম্পাদক তোফাজ্জেলের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. দিদারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, টনপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা পরিবহন খরচ হয়। তবে আমি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি।
চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার বিশ্বজিৎ জানান, টাকা আদায়ের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তার মতে, সাধারণত সব ইউনিয়নেই চাল আনতে জেলেরা কিছু টাকা দিয়ে থাকেন। এবার ৩৩৫ জন জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। উত্তোলিত টাকার অর্ধেক খরচ হয়েছে এবং বাকিটা পরের কিস্তির সময় সমন্বয় করা হবে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, সরকারি চাল বিতরণে টাকা নেওয়ার কোনো বিধান নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।