কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত সাত বছরের শিশু সাইয়েদার বাড়ি এখন শোকের জনপদে পরিণত হয়েছে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চর মনসা গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শনিবার গভীর রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হন। তাদেরই একজন ছিলেন হাফেজ সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সাইয়েদা।
রোববার রাতে সাইয়েদার মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দাফন করা হবে পারিবারিক কবরস্থানে।
এদিকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন সাইয়েদার মা রাজিয়া বেগম, বাবা হাফেজ সিরাজুল ইসলাম ও বড় বোন আফনান (২২)। তারা বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সাইয়েদার স্বজনদের অভিযোগ, বাবা-মা এখনো একবারের জন্যও মেয়ের মুখ দেখতে পারেননি।
তারা জানান, ফরিদপুর থেকে লক্ষ্মীপুরে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। রাত প্রায় ৩টার দিকে মামুন পরিবহনের বাসটি রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় ট্রেন এসে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় সাইয়েদাসহ কয়েকজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেট বন্ধ না থাকায় বাসটি লাইনে উঠে পড়ে এবং তখনই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে বাসচালকের ভুলকেও দায়ী করছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট গেটম্যান পালিয়ে গেছেন। এছাড়াও দুই গেটম্যান—মেহেদি হাসান ও হেলাল উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
রেলের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে বিভাগীয় ও জোনাল তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিহতের ফুফা আব্দুর রব বলেন, ঈদের পর আমাদের গ্রামে কয়েকদিন ধরে মেয়েরা আনন্দ-উল্লাস করে। সাইয়েদাও সেই আনন্দে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা সব আনন্দ কেড়ে নিলো।
চাচি সাহিনুর সুলতানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এক বছর আগেই অসুস্থ হয়ে বড় ছেলেটা মারা গেছে। এখন আবার মেয়েটাকেও হারাল। পরিবারটা একেবারে শেষ হয়ে গেল। একটি দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণই কেড়ে নেয়নি—ভেঙে দিয়েছে একটি পরিবার, নিভিয়ে দিয়েছে একটি গ্রামের ঈদের আনন্দ। এখন গ্রামজুড়ে শুধু একটাই প্রশ্ন এই শোকের দায় নেবে কে?