সুনামগঞ্জে সাম্প্রতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে মাঠে নেমেছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র পরিদর্শন, ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি এবং পরবর্তী পরিকল্পনা নির্ধারণে চলছে সরেজমিন কার্যক্রম।
এদিকে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মতভেদ ও ত্রাণ তালিকায় অসঙ্গতি থাকায়, এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন তালিকা তৈরি করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
সুনামগঞ্জের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা মঙ্গলবার (৫ মে) ছুটে যান সুনামগঞ্জে।
বিশ্বম্ভরপুরে তিনমাসব্যাপী মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তারা। তবে ত্রাণ বিতরণের তালিকা সঠিকভাবে প্রস্তুত না হওয়ায়, নতুন করে তালিকা তৈরির জন্য এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
তারা জানান, হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, তাই দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের এই দল পাঠানো হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সরকার চায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাই যেন সহায়তা পান। এজন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কৃষি বিভাগের দাবি, ৮০ শতাংশ কৃষক ইতিমধ্যে ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। কিন্তু স্থানীয় কৃষক, রাজনৈতিক নেতা এবং সাংবাদিকদের অভিযোগ এই তথ্য সঠিক নয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের জন্য এক মাসের মানবিক সহায়তা হিসেবে ১০ মেট্রিক টন চাল এবং ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে, যা তিন মাস চলবে।