পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় লাইসেন্স নবায়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার কার্যত লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় বর্তমানে মোট ৩০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য মাত্র দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স পেয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ছয়টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স অনুমোদনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সুপারিশ করেন। তবে সুপারিশপ্রাপ্ত ছয়টির মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেয়েছে। বাকি চারটির আবেদন এখনও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, আবেদনকারী বাকি ছয়টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিভিন্ন ত্রুটি থাকায় সেগুলোর বিষয়ে সুপারিশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ত্রুটিগুলো সংশোধন করে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে তাদের আবেদন পুনরায় বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে উপজেলার আরও ১৫টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার চার থেকে পাঁচ বছর ধরে লাইসেন্স নবায়ন করেনি। এছাড়া তিনটি প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত লাইসেন্সের জন্য কোনো আবেদনই করেনি।
একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক অভিযোগ করেন, লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার পর মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তদন্ত বা পরিদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সময়মতো আসেন না। ফলে একটি অর্থবছরের জন্য আবেদন করা লাইসেন্স হাতে আসে পরবর্তী অর্থবছরে।
তারা বলেন, বর্তমানে ২০২৬-২৭ অর্থবছর চলছে। অথচ আমাদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের লাইসেন্সের আবেদন এখনও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ঝুলে আছে। আবার ২০২৬-২৭ সালের নবায়নের আবেদন করলেও সেই লাইসেন্স হাতে পেতে ২০২৭-২৮ সাল চলে যাবে। বছরের মধ্যে লাইসেন্স না পেলে সেটি বাস্তবে কোনো কাজে আসে না। এ ধরনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকেই লাইসেন্স নবায়নের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া জটিল ও দীর্ঘ হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ন্ত্রণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের কার্যক্রম প্রচলিত সরকারি বিধি ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হয়ে থাকে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে অনিয়মের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়, যাতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। ইতোমধ্যে গলাচিপা উপজেলার লাইসেন্সবিহীন এবং লাইসেন্স নবায়ন না করা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর তালিকা পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন এবং গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স প্রক্রিয়া দ্রুত ও সময়োপযোগী করা হলে একদিকে যেমন বৈধ প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় উৎসাহ বাড়বে, অন্যদিকে অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিস্তারও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।