ইউএনওর বিরুদ্ধে আপত্তিকর বক্তব্য, নাচোলের দুই ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেয়া ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার দুই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপসচিব) উজ্জ্বল কুমার ঘোষ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, গত ২৪ আগস্ট প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয় এবং এরইমধ্যে এটি কার্যকর করা হয়েছে। 

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই চেয়ারম্যান হলেন- নাচোল ইউপির সফিকুল ইসলাম ও কসবা ইউপির জাকারিয়া আল মেহরাব।  

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ১০ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ২০২৬-এর স্বেচ্ছাসেবী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ওই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম ও জাকারিয়া আল মেহরাব নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দাসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে আপত্তিকর, মানহানিকর ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি বক্তব্য প্রদান করেন। 

এতে আরও বলা হয়েছে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের এমন আচরণ প্রত্যাশিত শালীনতা, দায়িত্বশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাব। 

তিনি বলেন, নোটিশ পেয়েছি। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথ জবাব দেব।

অন্যদিকে নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান নাচোল উপজেলা পরিষদের ইউএনও আওয়ামী লীগের দোসর। তিনি ফ্যামিলি কার্ডে নিয়োগের সময় আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। এ কারণে আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমরা কোনো অন্যায় করিনি। আজ সকালে নোটিশ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেব।

এর আগে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তালা দিয়েছিলেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

বরখাস্তের বিষয়টি জানার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মহিবুর রহমান রাকিব, আহাদ আলী, নুরুল ইসলাম, সাহাবুল খানসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী এ আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়েন। 

নুরুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের অনিমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় যদি বরখাস্ত হতে হয়। বারবার হবে, তারপরও অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে, ইনশাআল্লাহ।

নাচোল পৌর বিএনপির সহসভাপতি আমানুল্লাহ মাসুদ ক্ষোভের সাথে জানান, সেদিন তার দলের অনেক নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনসাধারণ বিক্ষোভে অংশ নেই। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যানরা তাদের বক্তব্যে প্রশাসনকে সতর্ক করেন। প্রশাসনে কোনো কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত বা অপমান করা না হলেও এ ধরনের আদেশ জনপ্রতিনিধিদের জন্য হতাশাজনক।

এর আগে গত ১০ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে নাচোল পৌর ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন। তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ করেন। যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ তুলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন স্থানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। 

একই দিনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানতে চাইলে জানানো হয়, কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।