নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের একটি হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম রুবেল (৪২) নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন ও নূর উদ্দিন শমির (৩৫) নামের অপর এক আসামিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে এ মামলায় পাঁচজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশেষ জজ আদালতের জেলা ও দায়রা জজ বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামিরা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাইফুল ইসলাম রুবেল কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সিরাজ আলমের ছেলে। আর পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর উদ্দিন শমির একই ওয়ার্ডের নূর নবীর ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাথে বাড়ির সীমানার গাছ কাটা নিয়ে মামলার বাদি ছলিমুল্যাহর সাথে বিরোধ ছিলো। এ বিরোধ নিরসনের জন্য ২০১২ সালের ৬ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টায় বাদির বাড়িতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশ চলাকালে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে আসামিরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাদির ছেলে শাইদুল ইসলাম শাহিনকে (১৯) লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে এবং একটি রড শাহিনের ডান পাশে গলার মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শাহিনকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদি হয়ে ১৪জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২জনকে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
সোমবার বিকেলে হাজতি আসামি সাইফুল ইসলাম রুবেলসহ অপর আসামিদের উপস্থিতিতে আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাইফুল ইসলাম রুবেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং আসামি নূর উদ্দিন শমিরকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
একইসাথে ওই মামলার আসামি সিরাজ আলম, কাজুলী বেগম, রোকসানা বেগম ও আফরোজা বেগমসহ পাঁচ আসামি এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ জজ আদালতের পিপি তাপক্কার হোসেন মো. খায়রুল ওয়ালা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, আমরা রায়ে সন্তুষ্ট, তবে আশা করেছিলাম আদালত অন্তত প্রথম আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করবেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী ছাড়াও বাদি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট হাবিবুর রসুল মামুন। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল হক।