বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কলাবাড়িয়া গ্রামে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নিজের ছেলেকে লুকিয়ে রেখে অপহরণ ও গুম মামলার দায়েরের ৯ বছর পর আত্মগোপনকারী রাসেল মৃধাকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর তাকে গৌরনদী থানায় আনা হয়।
সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে উদ্ধারের পর বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাসেল মৃধাকে বরিশাল আদালতে আনা হয়।
ভুক্তভোগীরা বলেন, উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কলাবাড়িয়া গ্রামের জালাল মৃধার সাথে তার প্রতিপক্ষদের সাথে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে জালাল মৃধার স্ত্রী মরিয়ম বেগম বাদি হয়ে ২০১২ সালের ৩ এপ্রিল বরিশাল আদালতে ১৪ জনকে আসামি করে তার ছেলে রাসেল মৃধাকে অপহরণের অভিযোগ করেন। ওই সময় রাসেল সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। আদালত এ বিষয়ে গৌরনদী থানা পুলিশকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন।
পরবর্তীতে মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরনদী থানার উপ পরিদর্শক ও বর্তমানে গৌরনদী শরিকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক ফোরকান হাওলাদার মামলায় ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এই মামলায় চারজন আসামি দীর্ঘদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত পায় এবং অন্য ১০ জন আসামি পালিয়ে থেকে দুর্বিষহ জীবন যাপন করেন।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় নির্মাণাধীন মন্ডপে প্রতীমা ভাঙচুর
ভুক্তভোগীরা বলেন, মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলায় ৯ বছরে আমরা ১৩টি পরিবার সহায় সম্বল সব হারিয়েছি।
অপহরণের সাজানো ঘটনার বিষয়ে উদ্ধার হওয়া রাসেল মৃধা বলে, তার চাচারা এই ৯ বছর তাকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রেখেছিল।
এ নিয়ে ওই সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, তিনি সাক্ষ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন।
পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলে দাবি করেছে হয়রানীর শিকার পরিবারগুলো।