ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও তাঁর মেয়ের করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল সাড় ৮টার দিকে বাড়বকুণ্ড আনোয়ারা জুট মিল সংলগ্ন বিদ্যুৎ অফিসের সামনে দ্রুতগামী একটি নোহা মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুজন এবং গুরুতর আহত হন একই পরিবারের আরও চারজন। নিহত দুজন হলেন রোজি আক্তার (৫৫) এবং তাঁর মেয়ে নাজমা (৪০)। তাদের মূল বাড়ি জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামগামী সাদা রঙের নোহা মাইক্রোবাসটি বাড়বকুণ্ড এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি শক্ত বিদ্যুতের খুঁটির সাথে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা খায়। বিকট শব্দে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন এবং দ্রুত পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার সাব-ইন্সপেক্টর মো. আমিনুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন, ঢাকার জামালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা একই পরিবারের ছয়জন সদস্য মিলে বান্দরবানের লামায় ভ্রমণের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। দীর্ঘ পথ ভ্রমণের ক্লান্তি ও চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ঘুমে থাকার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
দুর্ঘটনাকবলিত দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া নোহা মাইক্রোবাসটিকে মহাসড়ক থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। একটি মুহূর্তের অসতর্কতায় আনন্দঘন একটি পার পারিবারিক সফর যেভাবে শোকে রূপ নিল, তাতে এলাকায় নেমে এসেছে চরম শোকের ছায়া।