কিশোরী ধর্ষণের দায়ে চারজন গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার টিকেট গ্রামের দশম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্ণিমা দাসকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের পিতা শান্তিরঞ্জন দাস বাদি হয়ে একই গ্রামের পার্থ মণ্ডলের নাম উল্লেখ করে শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতেই এ মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র‌্যাব চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন দেবহাটা উপজেলার টিকেট গ্রামের মাধব চন্দ্র ঢালীর ছেলে গ্রাম ডাক্তার দেবব্রত ঢালী ওরফে ছোট ডাক্তার, একই গ্রামের দীলিপ সরকারের ছেলে নয়ন সরকার, আশাশুনি উপজেলার গাবতলা গ্রামের সূর্যকান্ত দাসের ছেলে টিকেট গ্রামের ঘরজামাই সুপ্রশান্ত দাস ও তার স্ত্রী সুমিত্রা দাস।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার টিকেট গ্রামের শান্তিরঞ্জন দাসের মেয়ে গাভা একেএম আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্ণিমা দাসের সঙ্গে একই গ্রামের শিবপদ মণ্ডলের ছেলে পার্থ মণ্ডলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক বছর আগে পূর্ণিমাকে বিয়ের জন্য পার্থ মণ্ডল প্রস্তাব দেয়। শান্তিরঞ্জন দাস সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পূর্ণিমা বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

আরও পড়ুন: বাসররাতে মনোমালিন্যর জেরে বরের আত্মহত্যা

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়তে বেরিয়ে রাতে বাড়ি ফেরেনি পূর্ণিমা। শুক্রবার সকালে একই গ্রামের তারক মণ্ডলের বাড়ির পুকুর পাড় থেকে পূর্ণিমার হাত বাঁধা রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় ও নখের দাগ ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় পূর্ণিমাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশ শুক্রবার টিকেট গ্রামের তারক মিস্ত্রির ছেলে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক গোবিন্দ মিস্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়। রাতে টিকেট গ্রামের গ্রাম ডাক্তার দেবব্রত ঢালী. নয়ন সরকার, টিকেট গ্রামের ঘরজামাই সুপ্রশান্ত দাস ও তার স্ত্রী সুপ্রিয়া দাসকে র‌্যাব পরিচয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

দেবহাটা থানার পুলিশ পরিদর্শক ফরিদ আহম্মেদ জানান, এ ঘটনায় শান্তিরঞ্জন দাস বাদি হয়ে শুক্রবার রাতেই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। একমাত্র আসামী পার্থ মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে চারজনকে আটকের ব্যাপারে তিনি জানান, র‌্যাব বা অন্য কোন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে আটক করতে পারে।


একাত্তর/এসজে