দুই বছর পর পড়াশোনা শেষ করে সংসারের হাল ধরতে চেয়েছিলেন পটুয়াখালীর হৃদয় চন্দ্র। কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষের সময় চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ হয়ে মরতে হয়েছে তাকে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে এখন বাকরুদ্ধ তার পরিবার। চেয়েছেন হত্যার বিচার।
গত ১৮ জুলাই রাতে বড় বোন মিতুর সাথে শেষ কথা হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্রের। সে সময় পরিবারের সবার খোঁজ নেন হৃদয়। কে জানতো এটিই তার শেষ কথা।
হৃদয়ের বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায়। তার বাবা কাঠমিস্ত্রি আর মা বাসা-বাড়িতে কাজ করেন।
নিজেদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের টাকায় এ দম্পতি মানুষ করতে চেয়েছিলেন একমাত্র ছেলেকে। মাকে প্রায়ই বলতেন, আর কয়েকটা বছর পর তাদের আর কষ্ট করতে হবে না। কিন্তু একটি গুলি শেষ করে দিয়েছে তার স্বপ্ন।
হৃদয়ের মা-বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রশ্ন রাখেন, কী অপরাধ ছিলো হৃদয়ের? কেনো তাকে এভাবে মরতে হলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির পর টিউশনি করে নিজের খরচ চালাতো হৃদয়। ভার ছিলো পুরো পরিবারেরও। তার হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত করে বিচার চেয়েছে এলাকাবাসী।
তাদের দাবি, হৃদয়ের মতো ভদ্র এবং মেধাবী ছেলে পুরো এলাকায় পাওয়া যাবে না।
১৮ জুলাই চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয়। সেখানেই চলমান সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। ২৩ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।