জাটকা না ধরায় চাঁদপুরে জেলেদের জন্য বিশেষ খাদ্যসহায়তা

ইলিশের পোনা জাটকা রক্ষায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে চাঁদপুরের সাড়ে আট হাজার জেলের জন্য এবার বিশেষ খাদ্যসহায়তা দিচ্ছে সরকার। বিগত বছরগুলোতে শুধু চাল দেওয়া হলেও এবারই প্রথম চালের পাশাপাশি ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য পাচ্ছেন জেলেরা।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক এ তথ্য জানিয়েছেন।

মৎস্য বিভাগ জানায়, মার্চ-এপ্রিল—এই দুই মাস জাটকা সংরক্ষণে অভয়াশ্রম এলাকায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এই সময়ে জীবনধারণের জন্য নিবন্ধিত ৩৯ হাজার ৪০০ জেলের জন্য চার মাস ৪০ কেজি করে মোট ১৬০ কেজি চাল বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম দুই মাসের কিস্তি বিতরণ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় কিস্তির বিতরণ কার্যক্রম চলছে।

উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় পদ্মা-মেঘনার জাটকা প্রবণ এলাকার সাড়ে আট হাজার জেলের জন্য অতিরিক্ত এই বিশেষ বরাদ্দ এসেছে। বিশেষ এই খাদ্যসহায়তার প্যাকেজে রয়েছে- ১০ লিটার সয়াবিন তেল, ১২ কেজি আটা, ১৬ কেজি আলু, চার কেজি চিনি, চার কেজি লবণ, আট কেজি মসুর ডাল।

মৎস্য বিভাগ আশা করছে, চলতি এপ্রিল মাসের মধ্যেই এই বিশেষ সহায়তা জেলেদের হাতে পৌঁছে যাবে।

মেঘনা উপকূলীয় এলাকার জেলেরা দীর্ঘ দিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন যে, শুধু ৪০ কেজি চালে তাদের সংসার চলে না। জেলেদের সেই দাবি বিবেচনা করে সরকার জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা প্রকৃত জেলেদের জন্য চালের পাশাপাশি এই বিশেষ নিত্যপণ্য বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে।

মৎস্য কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই বাড়তি সহায়তার ফলে জেলেরা জাটকা নিধন থেকে বিরত থাকতে আরও বেশি উৎসাহিত হবেন, যা ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।