খুঁটিতে বেঁধে কুকুর পিটিয়ে হত্যায় আসামি দুই, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় দুটি পোষা কুকুরকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

অভিযুক্ত আসামিরা হলেন—সদর উপজেলার দক্ষিণ বাদুরা এলাকার মনজু হাওলাদার (৫০) ও জহির হাওলাদার (৪৫)। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই বেলা ১১টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিযাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরা খেজুরতলা স্ট্যান্ড এলাকায় চায়ের দোকানি জাহাঙ্গীর হোসেনের পালিত দুটি কুকুরকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়। এরপর কাঠের বাটাম ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে কুকুর দুটিকে হত্যা করা হয়।

পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পিটিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিউর রহমানের নজরে আসে। তিনি সরেজমিনে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে পটুয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলি আদালতে একটি সিআর মামলা করেন। মামলায় ২০১৯ সালের প্রাণিকল্যাণ আইনের ৭(২) ধারা ও দণ্ডবিধির ৪২৮ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযুক্ত মনজু ও জহির হাওলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

মামলার বাদি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিউর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওর মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারি। বিষয়টি যাচাই করে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার সত্যতা পাওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আল ইমরান বলেন, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। আশা করছি, তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাঁসকে কামড় দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত দুজন এক প্রতিবেশীর রান্নাঘরের পাশ থেকে কুকুর দুটিকে ধরে এনে পিটিয়ে হত্যা করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, হাঁস কামড়ানোর ঘটনার সঙ্গে এই কুকুর দুটির কোনো সম্পৃক্ততা ছিলো না। বিনা বিচারে কুকুর দুটিকে হত্যার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।