পটুয়াখালীর বাউফলে সড়কের ওপর পড়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের বিপজ্জনক ছেঁড়া তারে জড়িয়ে ইউসুফ রাড়ি (৫০) নামে এক সাধারণ কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর স্কুলসংলগ্ন সড়কে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ইউসুফ রাড়ি স্থানীয় ইসহাক রাড়ির ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন এবং মৃত্যুকালে চার মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, রোববার সকালে ওই সড়ক দিয়ে একটি ভেকু মেশিন পারাপারের সময় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি থেকে একটি সংযোগ তার ছিঁড়ে সড়কের ওপর পড়ে যায়। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয়রা পল্লী বিদ্যুতের মমিনপুর জোনাল অফিসে অবহিত করেন। খবর পেয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে এলেও বিপজ্জনক তারটি মেরামত না করেই দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে স্থান ত্যাগ করেন।
এলাকাবাসীর আরও গুরুতর অভিযোগ, ছিঁড়ে যাওয়া তারটি দ্রুত মেরামতের জন্য লাইনটির আওতাভুক্ত কয়েকজন গ্রাহকের কাছে অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করেছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা। গ্রাহকরা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তারটি সড়কের ওপর ফেলে রাখা হয়, যা শেষ পর্যন্ত এক কৃষকের প্রাণ কেড়ে নিল।
সোমবার দুপুরে কৃষক ইউসুফ রাড়ি গবাদিপশুর জন্য ঘাস কাটতে ওই সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সড়কের ওপর ছড়িয়ে থাকা তাজা বিদ্যুতের তারে তিনি আকস্মিক জড়িয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। স্থানীয়রা তাঁকে তাৎক্ষণিক উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও অনৈতিক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা মমিনপুর জোনাল অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।
ঘটনার পর পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুতের বাউফল জোনাল অফিসের ডিজিএম, এজিএমসহ দায়িত্বশীলদের বক্তব্য জানার জন্য স্থানীয় সংবাদকর্মীরা একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো কর্মকর্তাই ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই দুর্ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা ও বিস্তারিত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।