বরগুনার তালতলীতে প্রথমবারের মতো বিরল ও বিষধর ‘স্পট-টেইলড গ্রিন পিট ভাইপার’ বা দাগী লেজা সবুজ বোড়া সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার সোনাকাটা গ্রাম থেকে স্বেচ্ছাসেবী পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’ সাপটি উদ্ধার করে। পরে সেটিকে নিরাপদে টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করা হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বরগুনায় দাগী লেজা সবুজ বোড়া সাপ উদ্ধারের এটিই প্রথম ঘটনা। পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা ও পিরোজপুরসহ সিলেট, চট্টগ্রাম ও সুন্দরবনের বনাঞ্চলে এ বিষধর সাপের উপস্থিতি থাকলেও উপকূলীয় এই এলাকায় এর দেখা মেলা বেশ বিরল।
সংগঠনটির বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী ও তথ্য-প্রচার সম্পাদক কাওসার (হৃদয়) স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সাপটি উদ্ধার করেন।
অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা জানান, বৈজ্ঞানিক নাম ট্রিমেরেসুরুস এরিথ্রুরুস। এই সাপটি মূলত নিশাচর ও গেছো স্বভাবের। ত্রিকোণাকৃতির চ্যাপ্টা মাথা এবং নাকের সামনে তাপ সংবেদনশীল ‘পিট অর্গান’ থাকায় এদের পিট ভাইপার বলা হয়। একটি পূর্ণবয়স্ক পিট ভাইপার সর্বোচ্চ দুই থেকে আড়াই ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ডিম পাড়ার বদলে এরা সরাসরি ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত বাচ্চা প্রসব করে।
তিনি আরও জানান, সাপটির লেজ ও পেটে লালচে বা হলুদ স্পট থাকে। এটি মূলত হেমোটক্সিক বিষ বহন করে, যার কামড়ে আক্রান্ত স্থানে তীব্র ব্যথা, ফোলা ভাব ও টিস্যুর ক্ষতি হতে পারে। তবে প্রকৃতিতে ইঁদুর ও অন্য ছোট প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রেখে খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সাপটি সাধারাণত মানুষকে নিজে থেকে আক্রমণ করে না জানিয়ে আসাদুল্লাহ হাসান বলেন, গাছে থাকা অবস্থায় অসাবধানতাবশত খুব কাছে গেলে আত্মরক্ষার্থে এটি কামড় দিতে পারে। সাপে কাটলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর ভরসা না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দেন তিনি। একইসঙ্গে বন্যপ্রাণী রক্ষায় আতঙ্কিত হয়ে সাপ হত্যা না করার জন্য এলাকাবাসীকে সচেতন হওয়ার আহবান জানানো হয়।