ডেঙ্গু শনাক্তের তথ্যে বড়ো গরমিল, প্রকৃত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ডেঙ্গুর প্রকৃত চিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি হাসপাতালের হিসাবের সঙ্গে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর তথ্যে দেখা গেছে বড়ো ধরনের ব্যবধান। গত এক সপ্তাহে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে মাত্র ১৩ জনের। বিপরীতে একই সময়ে উপজেলার মাত্র আটটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১৭৬ জন। অর্থাৎ সরকারি হাসপাতালে শনাক্ত রোগীর তুলনায় কেবল এই আটটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৪ গুণ।

উপজেলায় মোট ৩০টি নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে আটটির এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৪০ জন, নিউ গলাচিপা ডায়াগনস্টিকে ২৮ জন, সিকদার ডায়াগনস্টিকে ২৮ জন, মা-মনি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিকে ২৫ জন, নিউ মোহনা ডায়াগনস্টিকে ১৮ জন, পদ্মা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিকে ১৫ জন, জাহানারা ডিজিটাল ল্যাবে ১৫ জন এবং মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সাত জনের ডেঙ্গু পজিটিভ এসেছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগের একটি সূত্র জানায়, হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করানো ও পজিটিভ হওয়া রোগীদের তথ্যই কেবল সরকারি খাতায় সংরক্ষণ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। তবে সিংহভাগ রোগীই সরাসরি বেসরকারি চিকিৎসক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্ত পরীক্ষা করাচ্ছেন। সেখানে পজিটিভ এলেও সেই তথ্য সরকারি পরিসংখ্যানে যুক্ত হচ্ছে না। ফলে সরকারি তালিকার বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাথলজিস্টরা জানান, পরীক্ষা নেগেটিভ এলেও অনেক রোগীর রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা উদ্বেগজনক হারে কম পাওয়া যাচ্ছে। আকস্মিক লক্ষণ দেখা দেওয়ার প্রথম তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষা করালে অনেক সময় রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে, যা পরবর্তীতে জটিলতা বাড়ায়।

এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবাউদ্দিন বলেন, হাসপাতালে আসা রোগীদের তথ্যই আমরা সরকারি হিসাবে পাঠাই। তবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আরও অনেক বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছেন, তা আমাদের জানা আছে। সরকার যদি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে সরকারি হাসপাতালে তথ্য পাঠানোর বাধ্যবাধকতা দিতো, তবে সেই হিসাব যুক্ত করে প্রকৃত চিত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো সম্ভব হতো।

উপজেলার সব কয়টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য নিয়মিত সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সরকারি-বেসরকারি তথ্যের সমন্বয় না থাকলে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নিরূপণ, মশক নিধন অভিযান এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়বে।