বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি উপজেলার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে মিয়ানমারের ভারী একটি মর্টার সেল পড়েছে। এতে ওই স্থানে প্রায় ১০ ফুট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও সীমান্তের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার সন্ধ্যায় তুমব্রু সীমান্তের ৩৪ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকার জিরো পয়েন্টে মর্টার সেলটি পড়ে।
এছাড়াও হেলিকপ্টার থেকে গুলি, স্থলভাগ থেকে দফায় দফায় ছোঁড়া গুলির কারণে কাজ বন্ধ রেখেছেন বাংলাদেশ সীমান্তের চাষীরা। এমন পরিস্থিতিতে ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তের পাঁচটি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মিয়ানমার-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত ঘেঁষে মিয়ানমার জান্তা সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে চলছে। চলছে সীমান্ত ঘেঁষে ওপারে কামানের গোলা নিক্ষেপের পাশাপাশি বিমান থেকে গোলা বর্ষণের ঘটনা। সোমবার সন্ধ্যায়ও ৩৪,৩৫, ও ৩৬ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় ভারী অস্ত্র ও মর্টার সেল বিষ্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
বুধবার ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্তে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকার অভ্যন্তরে গোলাগুলির কোনো শব্দ পাওয়া যায়নি। তবে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সীমান্তের ওপরে গুলির শব্দ পাওয়া গেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দের কারণে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু এলাকার মাদ্রাসাসহ আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরাকান আর্মি রোববার রাখাইনের মিনবিয়া শহরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ৩৮০ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর দখল করেছে। রাখাইনের ম্রাউক ইউ, কিউকটা ও রাথেডং এলাকায় দুই পক্ষের লড়াই চলছে।
এদিকে আরাকান আর্মি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে জান্তার লড়াই করার সামর্থ্য নেই। তারা এখন আরও বেশি গোলা নিক্ষেপ ও আকাশ থেকে বোমা হামলা চালাচ্ছে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন ও পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্ত এলাকা পরির্দশন করেছে।
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্য মিয়ানমারের বিদ্রোহী আরাকান আর্মি জান্তার শাসনে থাকতে চায় না। তারা রাখাইন রাজ্যকে স্বীকার করে না। বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই রাজ্যকে আরাকান বলে মনে করে। তাদের মতে, আরাকান একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল। বার্মার রাজা আরাকান দখল করে রাজ্যটিকে দেশটির অন্তর্ভুক্ত করে।
আরাকানের স্বাধীন সত্ত্বা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে সশস্ত্র সংগ্রাম করে যাচ্ছে আরাকান আর্মি। সম্প্রতি তারা দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পালতোয়া, যেটি মিয়ানমারের চিন রাজ্যে অবস্থিত। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে পালতোয়ার দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার।