নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ মামলার প্রধান আসামি চরওয়াপদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল খায়ের ওরফে মুন্সী মেম্বারের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ভোররাতের দিকে তাকে ঢাকার গাবতলী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. হারুন (৪২) চরওয়াপদা ইউনিয়নের চরকাজী মোখলেছ গ্রামের মৃত বশির আহম্মদের ছেলে।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, জেলা পুলিশের একটি টিম ঢাকার গাবতলী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে । হারুন এ মামলার এজাহারভুক্ত ২ নং আসামি। ঘটনার পর সে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়ায়। এমনকি যশোর সীমান্ত দিয়ে একবার ভারতে পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার পর থেকে পুলিশ তার গতিবিধি নজরে রাখে।
গ্রেপ্তারকৃত এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় আসামি হারুনকে ঘটনাস্থলে এনে লুট করা গৃহবধূর স্বর্ণের কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অপরদিকে, এ মামলার প্রধান আসামি চরওয়াপদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল খায়ের ওরফে মুন্সী মেম্বারকে বুধবার আদালতে উপস্থাপন করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম তানিয়া ইসলাম।
মামলার অপর আসামি মেহরাজ (৪৮) অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
জবানবন্দিতে আসামি মেহরাজ জানিয়েছেন, এ মামলার অপর দুই আসামি আবুল খায়ের মুন্সী ও মো. হারুনের প্রস্তাবে রাজি হয়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে তিনি ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামীর অনুপস্থিতে চুরি করার উদ্দেশ্যে তার বসতঘরে সিঁদ কেটে প্রবেশ করে। এরপর তিনি ঘরের দরজা খুলে দিলে মুন্সি মেম্বার ও হারুন ভেতরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে মুন্সি মেম্বার ও হারুন দুজন মিলে পালাক্রমে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। এসময় মেহরাজ পাশের কক্ষে থাকা ওই নারীর ১২ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করেন। পরে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে তিনজন ঘর থেকে বেরিয়ে যান।
গত সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দুইটার দিকে চরওয়াপদা ইউনিয়নের চরকাজী মোখলেছ গ্রামের একটি নতুন বাড়িতে সিঁদ কেটে এক গৃহবধূ ও তার শিশুকন্যাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসময় ঘর থেকে দুইটি নাকফুল, কানের দুল এবং নগদ ১৭ হাজার ২২৫ টাকা লুট করাও হয় ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদি হয়ে আবুল খায়ের মুন্সী ও মো. হারুনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে আসামি করে সিঁদ কেটে ঘরে প্রবেশ, পরস্পরের সহযোগিতায় ধর্ষণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধে চরজব্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর কাদির হানিফ ইউনিয়ন থেকে আবুল খায়ের মুন্সী ও চরক্লার্ক ইউনিয়ন থেকে মেহেরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। অবশেষে তৃতীয় আসামিকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এ মামলার তিন আসামি সবাইকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ।