বাঘাইছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের বোধিপুর এলাকায় ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপের এক সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। শনিবার রাত ১০ টার দিকে বঙ্গলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কনসার্ট দেখার সময় মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুই সন্ত্রাসী। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপের সদস্য নিপুণ চাকমার (৩৫) মরদেহ রোববার  দুপুর ১২ টায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

এই হত্যাকাণ্ডের জন্য জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপকে দায়ী করে ইউপিডিএফ। তবে এই হত্যাকাণ্ডের দায় অস্বীকার করে জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপ।

ইউপিডিএফ প্রসিত দলের বঙ্গলতলী এলাকার সমন্বয়ক আর্জেন্ট চাকমা বলেন, বোধিপুর এলাকায় অনুষ্ঠান চলাকালে সেখানে ইউপিডিএফের বেশ কয়েকজন সদস্য দাড়িয়ে কথা বলার সময় জেএসএস এমএন লারমা দলের দুই সন্ত্রাসী অতর্কিত ব্রাশফায়ার করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে নিপুণ চাকমা চোগা মৃত্যুবরণ করেন। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

এদিকে, জেএসএস এমএন লারমা দলের উপজেলা সভাপতি জ্ঞানজীব চাকমা বলেন, এই হত্যার সাথে জেএসএস এমএন লারমা দল কোনোভাবেই জড়িত নয়। এ হত্যাকাণ্ড ইউপিডিএফের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। 

গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাজেকের মাচালং ব্রিজপাড়ায় ইউপিডিএফের দুই সদস্য দীপায়ন চাকমা ও আশিষ চাকমাকে একইভাবে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনায় জেএসএসের সন্তু লারমা দলেকে দায়ী করে ইউপিডিএফ। পরে নিহত দীপায়ন চাকমার স্ত্রী এশিয়া চাকমা বাদি হয়ে সাজেক থানায় মামলা করলেও এখনও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

বাঘাইছড়ির সার্কেল অফিসার ও রাঙ্গামাটির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল আওয়াল হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এলাকাটি দুর্গম এবং রাত হওয়ায় মরদেহ উদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। মরদেহ উদ্ধার করে তা ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।