বান্দরবানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বাড়াবে সরকার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কোনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে ছাড় দেয়া হবে না। বান্দরবানের রুমার ঘটনায় সন্ত্রাসীরা তাদের সক্ষমতা প্রর্দশন দেখানোর চেষ্টা করেছে মাত্র তবে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ধুলিসাৎ করে দেবে।

শনিবার বান্দরবান সার্কিট হাউজে বান্দরবান জেলার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বান্দরবানে আমরা সব বাহিনীর সদস্য আরও বাড়াবো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে যা যা করা দরকার তা করবো।

মন্ত্রী বলেন, বান্দরবান অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় এলাকা আর এ এলাকায় এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া যায় না।

সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় যান। তিনি সেখানে সোনালী ব্যাংকে শাখা পরিদর্শন করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বিবরণ শোনেন।

পরে দুপুরে বান্দরবান সদরে পৌঁছে প্রশাসনের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বান্দরবান সার্কিট হাউজে মতবিনিময় করেন। শেষে বিকেলে ঢাকা ফেরেন তিনি।

সন্ত্রাসীরা অর্থ সংগ্রহের জন্য এই হামলা চালিয়েছে বলে সরকার মনে করছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই এই হামলার কারণ আছে, কারা হামলা করেছে, কাদের সহযোগিতা ছিল-সবকিছু বের করা হবে। আমরা সবকিছু খতিয়ে দেখছি। সবগুলো বের করে আইনি ব্যবস্থা নেবো।

পরপর তিন দিন কয়েকটি হামলা, ব্যাংক ডাকাতি, অপহরণ, গোলাগুলি ও অস্ত্র লুটের ঘটনার পর বান্দরবানে সশস্ত্র গোষ্ঠী কেএনএফের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যৌথ অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে। তারা তাদের মতো করে কাজ করবে। আমরা এদের উৎপত্তিস্থল খুঁজে বের করবো। সেইসঙ্গে এসব ঘটনার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে যাবো।

গত ২ এপ্রিল রাতে এবং ৩ এপ্রিল দুপুরে বান্দরবানের রুমা এবং থানচি উপজেলার কৃষি ও সোনালী ব্যাংকের তিনটি শাখায় হামলা চালায় কেএনএফ।

তারা টাকা, অস্ত্র ও গুলি লুট করে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করে, একজন ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

রুমায় সোনালী ব্যাংকে হামলা-ডাকাতি এবং ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে অপহরণের ঘটনাটি মঙ্গলবার রাতে প্রথম ভাগে ঘটে। থানচিতে কৃষি ও সোনালী ব্যাংকে হামলা হয় বুধবার ভরদুপুরে।

এ নিয়ে দুই উপজেলার মানুষের ভয় আর আতংকের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে উদ্ধার করে র‌্যাব। তার কিছু পরেই থানচিতে ব্যাপক গোলাগুলি ঘটনা ঘটে।