দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং অবস্থা আরো বেগতিক হয়ে তাপমাত্রা আগের বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ৪০ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা এদিন দেশের সর্বোচ্চ।
এদিন সন্ধ্যায় এ তথ্য জানিয়েছেন ক্ষেপুপাড়া আবহাওয়া অফিস।
এক বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অফিস জানায়, গেলো কয়েকদিন ধরে তীব্র দাবদাহে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীসহ আশপাশের এলাকার জনজীবনে দুর্ভোগ বয়ে এনেছে। এরই মধ্যে সোমবার ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে তাপমাত্রা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আগের দিন রোববার কলাপাড়ায় সর্বোচ্চ ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা ছিল।
আবহাওয়া অফিসের সবশেষ ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে বরিশালসহ কয়েকটি বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
তাপপ্রবাহ থেকে শিশুদের রক্ষায় রোদে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, এরই মধ্যে তাপদাহে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসাপাতালে শিশু রোগী ভর্তি বাড়ছে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম একাত্তরকে বলেন, তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় শিশু ও বৃদ্ধরা। আর প্রভাবটা সবার আগে পড়ে শিশু হাসপাতালের ওপর।
‘এই সময় শিশুদের বাইরে বের না করাই ভালো। প্রচণ্ড হিটের সময় বাইরে বের করাটা অন্যায়,’ বলেন তিনি।
অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে শিশু হাসপাতালের এই পরিচালক বলেন, শিশুদের স্কুল সাধারণত সকালে। কিন্তু ফেরার সময়টা সাবধানে আসতে হবে। যেন তারা ছায়ায় থাকে।
বৈশাখের শুরু থেকেই তাপমাত্রা বেড়েই চলছে। আর যত্রে যে তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে, বাইরে অনুভূত হচ্ছে তার চেয়েও প্রায় পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। পূর্বাভাস রয়েছে, এ বছর তাপমাত্রা অন্যান্য বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।