সড়ক অবরোধ করে চুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছেই 

সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচিও চালিয়েছে যাচ্ছেন।

নিহত শান্ত সাহা ও তৌফিক হোসেনের সহপাঠীরা জানান, চালক ও সহযোগীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনাসহ ১০ দফা দাবি দিয়েছেন তারা। আর এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে।

বুধবার সকালেই দুই সহপাঠীর মৃত্যুর ঘটনায় তৃতীয় দিনের মতো কাপ্তাই সড়কে অবস্থান নেয় চুয়েট শিক্ষার্থীরা। রাস্তায় গাছ ফেলে, ব্যারিকেড দিয়ে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে  নানা স্লোগান দেয় তারা।

এদিকে বাসের ধাক্কায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বাস চালককে রাঙ্গুনিয়া থেকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে মঙ্গলবার ছাত্র প্রতিনিধি, বাস মালিক সমিতি ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বৈঠক হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। সেখানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

চুয়েট

গত সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের সেলিনা কাদের চৌধুরী কলেজ সংলগ্ন এলাকায় বাসের চাপায় নিহত হন মোটর সাইকেল আরোহী চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শান্ত সাহা ও ২১তম ব্যাচের তৌফিক হোসেন।

দুর্ঘটনায় আহত হন জাকারিয়া হিমু নামে আরেক শিক্ষার্থী। তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।

দুই শিক্ষার্থী নিহত ও এক শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় সোমবার রাতেই চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ করে নানা কর্মসূচি পালনে কাপ্তাই এর সাথে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও বিদেশগামীদের যানবাহনগুলো যেতে দিচ্ছেন অবরোধকারীরা।