চাঁবিপ্রবির দুই শিক্ষকের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাখ্যান

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চাঁবিপ্রবি) উপাচার্য ও রেজিস্টার ‘আত্মগোপনে’ থেকে দুই শিক্ষককে বহিষ্কার করার আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। 

গত ৯ সেপ্টেম্বরের ওই আদেশ প্রত্যাখ্যান করে ১১ সেপ্টেম্বর আলাদা দুইটি বিবৃতিতে এই প্রত্যাখ্যানের কথা জানান তারা। 

পরে শনিবার চাঁবিপ্রবির শিক্ষক সমিতি ও শিক্ষার্থীরা এই তথ্য সাংবাদিকদের জানান।

শিক্ষক সমিতির দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৯ সেপ্টেম্বর উপাচার্য তার অফিসিয়াল ই-মেইল ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টারের সই করা দুটি আলাদা অফিস আদেশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের প্রভাষক নাজিম উদ্দিন এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক প্রিন্স মাহমুদকে অব্যাহতি দেন। 

তাদের দাবি, ওই অফিস আদেশে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। 

শিক্ষকরা বলেন, চাঁবিপ্রবির আইন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বেতনভোগী শিক্ষক বা কর্মচারীকে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে কোনো তদন্ত কমিটি দিয়ে তদন্ত অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এবং তাকে ব্যক্তিগতভাবে বা কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে চাকরি থেকে অপসারণ বা পদচ্যুত করা যাবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উপাচার্য আইন লঙ্ঘন করেছেন। তিনি ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে এবং আইনের তোয়াক্কা না করে ওই শিক্ষকদের অব্যাহতি দিয়েছেন। চাঁবিপ্রবির শিক্ষক সমিতি সব শিক্ষকদের পক্ষ থেকে উপাচার্যের এমন সিদ্ধান্ত  প্রত্যাখ্যান করছে। একই সঙ্গে তার বিধিবহির্ভূত সব কর্মকাণ্ডের জন্য নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

অপরদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে দেওয়া বিবৃতিটি সিএসটিউই ইনসাইডার নামে ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। 

শিক্ষার্থীদের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, অবৈধভাবে শিক্ষকদের বহিষ্কারের অফিস আদেশ  জারি করা হয়েছে। চাঁবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। 

বিবৃতিতে বলা হয়, চাঁবিপ্রবির উপাচার্য পদত্যাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকদের অব্যাহতি দিয়ে জারি করা অবৈধ অফিস আদেশ বাতিল না করা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কোনো প্রকার একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে না।

সরকার পতনের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ক্যাম্পাস ছেড়ে ‘অজ্ঞাতস্থানে’ অবস্থান করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ও রেজিস্টার। ‘গায়েব’ থাকা অবস্থায় তারা দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে অব্যাহতি দেন।