খাগড়াছড়িতে সংঘর্ষে নিহত তিন

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বাঙালি ও পাহাড়িদের মধ্যে সংঘর্ষে তিন জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত ১৭ জন হাসাপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ চারজন। 

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুরো জেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শতাধিক দোকানপাট।  সারারাত গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। 

সংঘর্ষে জুনান চাকমা (২০), ধনঞ্জয় চাকমা (৫০) ও রুবেল চাকমা (৩০) নামে তিন জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। 

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান বলেন, ‘রাতে গোলাগুলি হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে।'

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

dighinala_2

সংঘর্ষের সূত্রপাত বৃহস্পতিবার বিকেলে। স্থানীয়রা জানান, বুধবার দীঘিনালায় মামুন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার জেরে প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিবাদ মিছিল বের করে বাঙালি শিক্ষার্থীরা। 

লারমা স্কয়ার পার হওয়ার সময় পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ধাওয়া পালটা ধাওয়া হয়। দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত হয় কয়েকজন। এক পর্যায়ে লারমা স্কয়ার বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয় একদল দুর্বৃত্ত। 

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

dighinala_3

তবে রাতের পরিস্থিতি থমথমে হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের নারানখখাইয়া, স্বনির্ভর এলাকায় ব্যাপক গুলির শব্দ শোনা যায়। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে গুলি। 

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবিব পলাশ বলেন, নিহতদের মধ্যে ধনঞ্জয় গত রাত সাড়ে ১০টায় এবং রুবেল ও জুনান রাত দেড়টায় মারা গেছেন। 

ধনঞ্জয় দীঘিনালায় এবং রুবেল ও জুনান সদরে আহত হয়েছিলেন। খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

আহতরা দীঘিনালা ও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।