খাগড়াছড়ির দীঘিনালার পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষের জের রাঙ্গামাটিতেও পৌঁছেছে। সেখানে সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা পৌর এলাকায় বলবৎ থাকবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, খাগড়াছড়ির দীঘিনালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে পাহাড়ি ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাঙ্গামাটি শহরের বনরূপায় যায়। তারা বেশ কয়েকটি গাড়ী ও দোকানে হামলা চালায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাঙালিরা প্রতিরোধে চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় বেশকিছু দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
পরে সেনবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। এই সংঘর্ষের পর শহরে গাড়ি চলাচল ও মানুষের উপস্থিতি তেমন নেই, ফাঁকা হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বাঙালি ও পাহাড়িদের মধ্যে সংঘর্ষে তিন জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত ১৭ জন হাসাপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ চারজন।
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুরো জেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শতাধিক দোকানপাট। সারারাত গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষে জুনান চাকমা (২০), ধনঞ্জয় চাকমা (৫০) ও রুবেল চাকমা (৩০) নামে তিন জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।