চট্টগ্রামে চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে আদালতে তুলেছে পুলিশ

চট্টগ্রামে সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) নেতা চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারীকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়েছে। 

মঙ্গলবার সকালে কঠোর পুলিশি পাহাড়ায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে নিয়ে আসা হয়। পরে কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এর আগে সোমবার বিকেলে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে এই ধর্মীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহনগর গোয়েন্দা পুলিশ। 

পাঁচ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর সংখ্যালঘু নির্যাতনসহ নানা ইস্যুতে আন্দোলনে নেমে আলোচনায় আসেন চিন্ময়। এক পর্যায়ে তার ডাকা একটি কর্মসূচিতে জাতীয় পতাকার ওপর গেরুয়া পতাকা বাঁধার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয় চিন্ময়ের বিরুদ্ধে।

চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থিত স্বাধীনতা স্তম্ভে জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগে সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেছিলেন বিএনপি নেতা ফিরোজ খান। তবে মামলার পর তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি নগরের চান্দগাঁও থানার মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। 

তার অব্যাহতির ব্যাপারে নগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা ইদ্রিস আলী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, দলের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ফিরোজ খানকে অব্যাহতি দিয়েছে দল। তবে ওই মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে চিন্ময়কে।

চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। 

এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চিন্ময়ের গ্রেপ্তারে ইসকন উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে তার মুক্তিতে ভারতকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসকন।   

ইসকন চিন্ময়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তাদের জড়িত থাকার দাবি ভিত্তিহীন এবং অগ্রহণযোগ্য।

একই সঙ্গে ইসকনের এক্স হ্যান্ডেলে এক বার্তায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়,  ‘ইসকন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নেতা শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ঢাকায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এমন খবরে আমরা উদ্বিঘ্ন। 

বিশ্বের যেকোনো স্থানে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ইসকনের কোনো সম্পর্ক আছে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করা নিন্দনীয়। ইসকন ভারত সরকারকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এবং বাংলাদেশ সরকারের সাথে কথা বলার আহ্বান জানাই।

আমরা চাই বাংলাদেশ সরকার অবিলম্বে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মুক্তি দিক। এই ভক্তদের রক্ষার জন্য ভগবান কৃষ্ণের কাছে আমাদের প্রার্থনা’।