চট্টগ্রামে পুলিশ হেফাজতে এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দিয়ে সিআইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদনও আদালত খারিজ করে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার আদালত এই আদেশ দেন।
যাদের বিরুদ্ধ পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন- নগরের পাঁচলাইশ থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ মো. নাজিম উদ্দিন মজুমদার ও সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল আজিজ।
নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর নাম মো. মুস্তাকিম।
বাদির আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, পুলিশ হেফাজতে কিডনি রোগীর স্বজন মোস্তাকিমকে নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করা হয়েছিল। সেখানে আবেদন খারিজ হলে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আপিল করা হয়।
মহানগর দায়রা জজ এটি শুনানির জন্য আবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠান। সেখানে শুনানি শেষে বাদির নারাজি আবেদন গ্রহণ করে পিবিআইতে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।
বাদি পক্ষ জানায়, ডায়ালাইসিস ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে ২০২৩ সালের শুরুতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রোগী ও তাদের স্বজনরা আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনে তর্কের এক পর্যায়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি নাজিম উদ্দিন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এসময় তিনি নিজের মুঠোফোন বের করে বিক্ষোভকারীদের ভিডিও ধারণ করেন এবং তাদের পরে দেখে নেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন। এরপর পাঁচলাইশ থানার একদল পুলিশ সেখানে এসে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে ওসি নাজিম মোস্তাকিমকে গ্রেপ্তার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিচে মারধর করেন। এরপর তাকে থানায় নিয়ে পুনরায় মারধর করেন। পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগে পাঁচলাইশ থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের করা মামলায় মোস্তাকিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন মোস্তাকিম। এতে ওসি নাজিম উদ্দিন মজুমদার ও এসআই আবদুল আজিজকে আসামি করা হয়।
আদালত পরে মামলাটি তদন্তে সিআইডিকে নির্দেশ দেন। গত বছরের ১১ মে ওসি ও এসআইকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সরকারি সংস্থাটি।