সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নাকচকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে ভাঙচুর, হামলায় ঘটনায় নিহত অ্যাড. আলিফের ভাইয়ের করা মামলায় ৬৩ আইনজীবীর জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে তারা আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করলে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, দায়ের করা মামলায় যেসব আইনজীবীদের আসামি করা হয়েছে তারা এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না। যিনি মামলা করেছেন, তিনি নিজেও ঘটনাস্থলে ছিলেন না। আদালত আামাদের শুনানিতে সন্তুষ্ট হয়ে চার্জশিট বা পুলিশ রিপোর্ট না হওয়া পর্যন্ত আইনজীবীদের জামিন দিয়েছেন।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী মফিজুল হক ভুঁইয়া জানান, মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় পুলিশ প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত আইনজীবীদের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের ভাই জানে আলম ১১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন।
আইনজীবীদের আত্মসমর্পণ উপলক্ষে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক পুলিশ-বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বাংলাদেশ সনাতনী সম্মিলিত জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
ওই আদেশের পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজনভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাসকে কারাগারে নিয়ে যায়। সেদিন চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ওই ঘটনার চার দিন পর নিহত আলিফের ভাই খানে আলম চট্টগ্রামের কোতয়ালি থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা করেন। ভাঙচুর, বিস্ফোরণ ও জনসাধারণের ওপর হামলার অভিযোগে করা ওই মামলায় ১১৬ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় আইনজীবীদের আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া আলিফ হত্যার ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। আদালত এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধাদানের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে তিনটি মামলা করেছে।