চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে জশনে জুলুস। সকালে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট জুলুসের আয়োজন করে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা হাতে সবুজ পতাকা, প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে শোভাযাত্রায় শামিল হন। এবার জুলুসে পয়ে চাপে পড়ে মারা গেছে দুইজন।
চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও জশনে জুলুসের আয়োজন করে আঞ্জুমানে আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট। ভোর থেকেই চারদিক থেকে ছুটে আসতে থাকে দলে দলে মানুষ। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও হাতে আনজুমানের সবুজ পতাকা, আবার কারও হাতে কালেমার পতাকা। একদিকে দরুদ-সালাম আরেকদিকে স্লোগান, সবকিছু মিলিয়ে চট্টগ্রামের আকাশ-বাতাস ভরে ওঠে নবীপ্রেমের অনন্য আবেগে।
সকাল গড়াতেই মুরাদপুর, জিইসি, ২নং গেট, ষোলশহর ও বহদ্দারহাটে উপচে পড়ে মুসল্লিদের ঢল। নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে ছিল শুধু মানুষের স্রোত। এবারের জুলুসে উপস্থিতি ছিল অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। লাখো নয়, বলা চলে অগণিত মানুষের পাদচারণায় নগরী রূপ নেয় ইমান ও ভ্রাতৃত্বের মহোৎসবে।
এবার ৫৪তম জুলুসের নেতৃত্ব দেন আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মাদজাল্লাহু আলি)। তার গাড়িবহর এক নজর দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে আসেন ভক্তরা। বিশ্বনবী হযরত (সা.) জন্মদিনে বিশ্বশান্তি কামনা করে তিনি বলেন, বিশ্বে হানাহানি হিংসা বেড়ে গেছে, এগুলো থেকে মুক্তির পথ নবীর বাণী ও জীবন দর্শন ধারণ করা।
আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ বলেন, জশনে জুলুস হচ্ছে নবীপ্রেমের সোনালি প্রদীপ। লাখো মানুষের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মুসলমানরা নবীজির (সা.) ভালোবাসায় সর্বদা ঐক্যবদ্ধ। ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া এই জুলুস আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম আজ ঈমান, ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার মহোৎসবে রূপ নিয়েছে।
পথে পথে ছিল সেবামূলক আয়োজন। প্রতিটি মোড়ে পানি, শরবত, তাবাররুক আর খাবার নিয়ে হাজির ছিলেন স্বেচ্ছাসেবকরা। ছোট্ট শিশুরা হাতে গ্লাস নিয়ে আগত মুসল্লিদের আপ্যায়নে ব্যস্ত। ভক্তদের এই আন্তরিকতায় অতিথিপরায়ণতার এক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়। আলোকসজ্জায় ঝলমল করে উঠে শহরের প্রতিটি সড়ক, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান। মসজিদ-মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সংগঠন আয়োজন করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম নগরী রূপ নেয় আলোর শহরে, নবীপ্রেমের নগরীতে।
শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি আঞ্জুমান সিকিউরিটি ফোর্স, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করেন। মিলাদুন্নবীতে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার শিক্ষার স্বপ্ন দেখেন জুলুসে আসা প্রিয় নবীর আশেকরা।
চট্টগ্রামের এই জশনে জুলুস শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। স্বাধীনতার পর থেকে হযরত (সা.) জন্মদিন উপলক্ষ্যে মিলাদুন্নবীর এ জুলুশের আয়োজন করে আসছে আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া ট্রাস্ট।