সোমবার থেকে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটে চলাচল করবে পর্যটকবাহী চার জাহাজ। ডিসেম্বর থেকে দ্বীপে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকায় ও পর্যটকের সাড়া পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাহাজ কর্তৃপক্ষ।
তবে প্রতিবারের মতো শর্তের বেড়াজালের ভেতর সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের অনুমতি নিয়ে অসন্তুষ্ট পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে রোববার দেখা যায়, কক্সবাজারের বিআইডব্লিউটিএ ঘাটের বাঁকখালী নদীর জলে ভেসে আছে বিলাসবহুল বারো আউলিয়া, কর্ণফুলী, ক্রুস অ্যান্ড ডাইনসহ চার জাহাজ। জাহাজের গায়ে রঙ পলিস করা, নানা সরঞ্জাম দিয়ে জাহাজকে সাজানো প্রায় শেষের পথে।
জাহাজের মালিকরা বলছেন, পর্যটক না পাওয়ায় নভেম্বরের পুরো মাস জাহাজ যায়নি প্রবাল দ্বীপে। ডিসেম্বরে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকায় এখন কিছুটা সাড়া মিলেছে। তাই ডিসেম্বরের শুরুর দিন থেকেই সেন্ট মার্টিনের নৌপথে জাহাজ চালাবেন তারা।
তবে পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সেন্ট মার্টিনে রাত্রিযাপনের সুযোগ ঝিমিয়ে যাওয়া দ্বীপের পর্যটন শিল্পকে রক্ষা করা যাবেনা। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের ক্ষতিও পোষানো অসম্ভব।
কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা বলেন, প্রবাল দ্বীপের পর্যটন নিয়ে নানা জটিলতায় শুধু সেন্ট মার্টিন নয় বরং পুরো কক্সবাজারেই এর প্রভাব পড়েছে। কক্সবাজার থেকে বিমুখ হয়ে বিদেশ ভ্রমণের প্রবণতাও বেড়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বলছে, আগামী দুইমাস সেন্ট মার্টিনে রাতে থাকা যাবে। প্রতিদিন দুই হাজার পর্যটক ভ্রমণের অনুমতিসহ ১২টি নিয়ম মানতে হবে পর্যটকদের।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২টি নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে জেলা প্রশাসন। আগে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করলেও নিরাপত্তার কারণে এখন কক্সবাজার শহর থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করবে।