পাঁচ ইউনিটের তিনটি বন্ধ, যেকোনো সময় বন্ধের শঙ্কায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ

তীব্র খরা আর অনাবৃষ্টিতে দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। ফলে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে’ চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পানি স্বল্পতার কারণে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে সচল থাকা বাকি দুটি ইউনিট থেকে নামমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টর জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে যেকোনো সময় কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তবে বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র দুটি ইউনিট থেকে মাত্র ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে দুই নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট এবং তিন নম্বর ইউনিট থেকে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির রুল কার্ভ (পানির পরিমাপ সূচি) অনুযায়ী, বছরের এই সময়ে কাপ্তাই হ্রদে পানির লেভেল থাকার কথা ৭৮.৩৪ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। তবে এদিনি সকাল ৯টা পর্যন্ত হ্রদে পানি ছিল ৭৩.৯১ ফুট এমএসএল। অর্থাৎ রুল কার্ভের চেয়ে বর্তমানে হ্রদে ৪.৪৩ ফুট পানি কম রয়েছে।

কেন্দ্রের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, হ্রদের পানির স্তর ৬৮ ফুট এমএসএলে নেমে গেলে তাকে বিপজ্জনক সীমা ধরা হয়। পানি ওই স্তরে পৌঁছালে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হয়। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

বিদ্যুতকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শুষ্ক মৌসুমের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দিন দিন কমছে। চলতি সপ্তাহে রাঙামাটি ও আশপাশের এলাকায় মাঝে মাঝে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। সহসা মুষলধারে বৃষ্টি না হলে বন্ধ থাকা ইউনিটগুলো চালু করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনই ব্যাহত হচ্ছে না, হ্রদনির্ভর স্থানীয় পাহাড়ি জনপদের মানুষের দুর্ভোগও চরমে পৌঁছেছে। হ্রদের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর ও কাদা জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে রাঙামাটির বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের নৌপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নৌযান চলাচল থমকে যাওয়ায় দুর্গম উপজেলাগুলোর স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।