চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল নেসা ইরাকে (৮) অপহরণ ও হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি বাবু শেখকে (৪৫) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে আড়াই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র চার মাসের মাথায় মামলার রায় ঘোষিত হলো।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন জানান, হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সাত ধারায় (অপহরণ) আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯ ধারায় (ধর্ষণের চেষ্টা) ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
নিহত শিশু জান্নাতুল নেসা ইরা সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টার পাড়া এলাকার টমটমচালক মনিরুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলো।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, চলতি বছরের এক মার্চ সকালে শিশু ইরাকে চকলেট কিনে দেওয়ার ও বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে অপহরণ করে বাবু শেখ। পরে তাকে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকার বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়ে যায় সে। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ইরাকে নির্মমভাবে হত্যা করে বাবু শেখ।
ঘটনার পর সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্তে নামে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের দুদিনের মাথায় গত তিন মার্চ দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকা থেকে ঘাতক বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।