আকস্মিক ঢল ও বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

শুক্রবার গভীর রাতে মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের পানির তীব্র স্রোতে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল আকস্মিকভাবে প্লাবিত হয়েছে। কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় মধ্যরাতে আকস্মিক এই বন্যার মুখে পড়ে চরম দুর্ভোগ ও সংকটে পড়েছেন জেলার বিভিন্ন গ্রামের হাজারোঅধিবাসী।

হঠাৎ পানি বাড়ার ফলে খাগড়াছড়ির মুসলিম পাড়া, কালাডেবা, গঞ্জপাড়া, ফুটবিল এবং খবং পড়িয়াসহ একাধিক নিম্নাঞ্চলের গ্রাম দ্রুত পানির নিচে তলিয়ে যায়। লোকালয়ে দ্রুত পানি প্রবেশ করায় সাধারণ মানুষজন বাধ্য হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গা, রাস্তাঘাট এবং আশপাশের দোকানপাটের বারান্দায় গিয়ে রাতভর আশ্রয় নেন।

আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, চোখের পলকে ঘরের ভেতর পানি ঢুকে প্লাবিত হওয়ায় অনেকেই ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র বা মালামাল সরানোর সুযোগ পাননি। গৃহপালিত পশু, বিশেষ করে হাঁস-মুরগি পানিতে ডুবে মারা গেছে এবং নিম্নাঞ্চলের বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি জলমগ্ন হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনার পরপরই খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোঃ আনোয়ার সাদাত জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে প্লাবিত এলাকাগুলো সরাসরি পরিদর্শন করেন। ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি আশপাশের স্থানীয় বিদ্যালয়গুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকস্মিক এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার ও সাময়িক থাকার সুব্যবস্থা করা হচ্ছে। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে পর্যাপ্ত সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।