আলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর চূড়ান্ত রায় ঘোষণার জন্য সোমবার (২৪ আগস্ট) দিন নির্ধারণ করেছে হাইকোর্ট।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দীর্ঘ লড়াই শেষে রায়ের দিন ধার্য হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নিম্ন আদালতের দেওয়া দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে এবং তাদের পরিবার দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পূর্ণ ন্যায়বিচার পাবে।
মেয়ের বিচারে আদালতের প্রতি আস্থা প্রকাশের পাশাপাশি বেঁচে থাকা অন্য সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নুসরাতের মা। তিনি জানান, প্রভাবশালী মহলের নানা হুমকি ও মামলার বাদি-সাক্ষী হিসেবে পরিবারের সদস্যরা জড়িত থাকায় প্রতিমুহূর্তে এক অদৃশ্য ভয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। অপরাধীদের সহযোগীরা যেকোনো সময় প্রতিশোধ নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় ছেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত এবং সরকারের কাছে স্থায়ী ও জোরদার নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে গত ২৮ জুলাই থেকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার পেপারবুক ও আপিলের ওপর টানা ১৭ কার্যদিবস শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য এই দিন পুনর্নির্ধারণ করেন।
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেন নুসরাতের মা। এর জেরে ওই বছরের ছয় এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যান।
ঘটনায় নিহতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের করা মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন। নিম্ন আদালতের সেই রায় অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর অবশেষে উচ্চ আদালত থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে।