রাউজানের যুবদল নেতা মাসুদ হত্যার মূল শুটারসহ গ্রেপ্তার চার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির পর ‘বড়ো সাজ্জাদ’ বাহিনীর অন্যতম সহযোগী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘শুটার’ কালা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নাইন এমএম পিস্তলসহ বিপুল অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।

তিনি জানান, দুই হাতেই অস্ত্র চালাতে পারদর্শী মোবারক একাধিক হত্যা মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং মূল শুটার হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন খবরে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে ফটিকছড়ির লেলাং এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে মোবারকসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি নাইন এমএম পিস্তল রয়েছে, যা গত পাঁচ আগস্টের পর নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এছাড়া যুবদল নেতা মাসুদ হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলীতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাসুদুল হক। আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার হলেও মোবারক পলাতক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজে মোবারককে সরাসরি গুলি চালাতে দেখা যায়। এছাড়া প্রাথমিক তদন্তে মাসুদ হত্যার নেপথ্যে বালু উত্তোলন সংক্রান্ত বিরোধ কারণ হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার কালা মোবারকের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা এবং নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।