উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ে ‘পাঁচ শতাংশ’ কমিশন দাবি, কাজ শেষ হওয়ার আগেই ‘প্রায় ৩৩ কোটি টাকার বিল পরিশোধ’ এবং ‘সরকারি বিধি লঙ্ঘন’ করে নিজ জেলায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করে ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট এই আদেশ জারি করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, কালভার্ট ও গভীর নলকূপসহ উন্নয়নকাজের বিল ছাড়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন দাবির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ‘মেসার্স মনোয়ারা অ্যান্ড ফাল্গুনি ট্রেডার্স’-এর এমন এক লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৫ জুলাই তদন্ত কমিটি গঠন করে এলজিইডি। গত ২৮ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীন সরেজমিনে তদন্তে গেলে ইকবাল হোসেন নিজের পক্ষে সাফাই গাওয়াতে নিজ এলাকার পরিচিত কয়েকজন ঠিকাদারকে এনে দাঁড় করান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া লক্ষ্মীপুর পিটিআইয়ের একাডেমিক ভবন ও মহিলা হোস্টেলের কাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও গত জুন ক্লোজিংয়ে প্রকল্পের প্রায় ৩৩ কোটি টাকার শতভাগ বিল পরিশোধের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তড়িঘড়ি করে পুরনো রড ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হয়। সরকারি নীতিমালায় নিজ জেলায় পদায়নে বিধিনিষেধ থাকলেও ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন লক্ষ্মীপুর সদরের পাশাপাশি রায়পুর ও চন্দ্রগঞ্জ এলাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এদিকে ইকবাল হোসেনের বদলির আদেশকে স্বাগত জানালেও শুধু বদলিতেই সীমাবদ্ধ না থেকে তার কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, শুধু বদলি করলেই সমাধান হবে না। কাজ অসম্পূর্ণ রেখে শতভাগ বিল পরিশোধ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে উন্নয়ন প্রকল্পের দুর্নীতি ধামাচাপা না পড়ে।
অভিযোগ ও বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডি লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী জানান, সদর দপ্তর থেকে বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়গুলো বর্তমানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।