লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বহুল আলোচিত ফাতেমা আক্তার হত্যা মামলার ছয় বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত উদঘাটন হয়নি মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য। দীর্ঘ এই সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা বদলেছেন আটজন। অবশেষে বিচার ও নিরাপত্তার আকুতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছেন নিহত ফাতেমার ৬৫ বছর বয়সী অসুস্থ মা হাসনা বেগম।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৯ জুলাই রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের লুদুয়া গ্রামের ভূঁইয়াবাড়িতে নিজ ঘর থেকে ২০ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরুতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালিয়ে অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছিলো। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ফাতেমার মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধের আলামত উঠে এলে বিষয়টি হত্যা মামলা হিসেবে মোড় নেয়। নিহত ফাতেমার বোন সারাবান তহুরা বৃষ্টি বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এজাহারে ইয়াছিন, রাহিমা বেগম, রায়হান ও শারমীন আক্তারসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ রয়েছে।
মামলাটির তদন্তভার একাধিক সংস্থার হাত ঘুরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে যায়। তবে ডিবির দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন আদালত বাতিল করে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলার বাদি সারাবান তহুরা বৃষ্টি বলেন, ময়নাতদন্তে স্পষ্ট হত্যার আলামত থাকা সত্ত্বেও ছয় বছরে তদন্ত শেষ হলো না। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আমার বোনকে কে বা কারা হত্যা করেছে তা দ্রুত বেরিয়ে আসুক এবং আসামিরা সাজা পাক।
মেয়ের ছবির দিকে তাকিয়ে বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন অসুস্থ মা হাসনা বেগম। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্তকরণ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আবেদন জানিয়েছেন। হাসনা বেগম বলেন, মেয়েকে তো আর ফিরে পাবো না, মৃত্যুর আগে শুধু হত্যার সত্যটা জেনে বিচার দেখে যেতে চাই।
এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নিহতের পরিবার। আসামিপক্ষের অব্যাহত হুমকি-ধমকিতে প্রাণনাশের আশঙ্কায় তারা নিজ বাড়িতে থাকতে না পেরে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ফাতেমা অত্যন্ত সহজ-সরল ও ভালো স্বভাবের মেয়ে ছিলেন এবং এলাকায় কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিলো না।
মামলার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া জানান, সিআইডির দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে তার কথা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সত্য ঘটনা উদঘাটনে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না এবং দ্রুতই প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।