আবার যেন রাজনৈতিক যুদ্ধে রাজপথে নামতে না হয়: এ্যানি

দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে এখন নাগরিকদের শান্তি ও উন্নয়ন সুনিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক যুদ্ধ আমরা শেষ করেছি, এখন আমাদের জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। আবার যেন রাজপথে রাজনৈতিক যুদ্ধে নামতে না হয়। জীবনযুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলাদেশে শান্তি, সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন নাগরিক সুবিধা আদায় করে সবাই যেন সম্মান নিয়ে মিলেমিশে থাকতে পারি, সেটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

শুক্রবার রাতে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার শাঁখারীপাড়ায় ত্রিনয়নী পৌর মহাশ্মশান ঘাটে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভ সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সরকারি দলের যেমন দেশের মানুষের প্রতি নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে, ঠিক তেমনি বিরোধী দলেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। কিন্তু সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিরোধী দল তাদের সেই দায়িত্ব কতটুকু পালন করছে, তা প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমান পরিস্থিতিতে রোডমার্চ বা লংমার্চের মতো কর্মসূচি দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অতীতে টানা হরতাল-অবরোধের মাধ্যমে যারা দেশকে অচল করে রেখেছিল, বর্তমান বিরোধী দল তাদেরই অনুসরণ করছে, যা ঘুরেফিরে সেই একই রূপ।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দেশে যেন আর নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

দুর্গাপূজার আমেজ ও সম্প্রীতি প্রসঙ্গে এ্যানি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বহু পুরোনো ও গভীর। দল সরকারি কিংবা বিরোধী, যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, অতীত থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্যেও তিনি সবসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং কখনোই পিছপা হননি। বিশেষ করে ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামীতেও এই পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসা অক্ষুণ্ণ থাকবে।

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও পৌর মহাশ্মশান ঘাট সংসদের সভাপতি সম্রাট খীসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. হাছিবুর রহমান, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মিলন মণ্ডল এবং জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথসহ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।