দেশের উচ্চশিক্ষায় বিদ্যমান ভৌগোলিক বৈষম্য দূর করে পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বুধবার রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত ‘একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশন ফর ইনোভেশন, ইমার্জিং টেকনোলজিস অ্যান্ড একাডেমিক এক্সিলেন্স’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্যের কথা জানান বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
অধ্যাপক ড. মামুন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে তৎকালীন সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নামমাত্র উদ্যোগ নিলেও সেসব প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, আধুনিক অবকাঠামো, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি এবং গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করেনি। ফলে প্রত্যন্ত ও আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর শিক্ষার্থীরা মারাত্মক বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন। বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এবার এসব বৈষম্য নিরসন করে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে একযোগে সমানভাবে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বাজেটের চিত্র তুলে ধরে ইউজিসি সদস্য জানান, বর্তমানে শিক্ষা খাতে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হলেও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রাখা হয়েছে। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গবেষণায় গতি আসবে। এছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে পার্বত্য ও দুর্গম অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চগতির ৫জি ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে অনগ্রসর এলাকার শিক্ষার্থীরাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, রোবোটিকস ও ডেটা সায়েন্সের মতো আধুনিক শিক্ষায় প্রবেশাধিকার পায়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক বৈষম্য কমাতে ‘ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ’ বা শিক্ষক বিনিময় এবং সামার স্কুল প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনার কথা জানান ড. মামুন। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা আঞ্চলিক ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গিয়ে পাঠদান ও প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন এবং এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ডিগ্রি দেওয়ার কারখানার বাইরে এনে ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার যৌথ অংশীদারত্ব, ইন্টার্নশিপ এবং উদ্যোক্তা তৈরির গবেষণাগার হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।
রাবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল এবং রাবিপ্রবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। সেমিনারের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।