সৌদিতে নির্যাতনের শিকার তাকিয়া দেশে ফিরেছেন

সৌদি থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরতে হলো গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার তাকিয়া বেগমকে। স্বজনরা জানান, জীবিকার তাগিদে স্বামী ও দুই সন্তানকে রেখে সৌদি গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরিশ্রম বেশি হবার কারণে কাজ ছাড়তে চাইলে রিক্রুটিং এজেন্সির লোকজনের দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরে নানা চেষ্টার পর ফেরেন প্রিয়জনদের কাছে।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া পৌর এলাকার বাসিন্দা দরিদ্র আব্দুল আলীর মেয়ে তাকিয়া। রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে গত সেপ্টেম্বরে গৃহকর্মী হিসেবে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। সেখানে বড় একটি বাড়িতে কাজও পেয়ে যান।

কিন্তু পরিশ্রম বেশি হওয়ায় কিছুদিন পর কাজ ছাড়তে চান তিনি। আর একথা এজেন্সিকে জানালে টানা তিনদিন আটকে রেখে তাকে নির্যাতন করা হয়। পরে অনেক আকুতির পর গত ২৬ অক্টোবর প্রাণে বেঁচে দেশে ফেরেন তাকিয়া।

নির্যাতনের শিকার তাকিয়া বেগম জানান, তাকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে।

স্বজনরা জানান, নির্যাতনের কথা জানানোয় তাকিয়াকে আর বাড়ির সাথে যোগাযোগ করতে দেয়নি এজেন্সির লোকজন।

স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের জন্য যাওয়া প্রবাসীরা নিরাপত্তা না পেলে অন্যরা সামনে যেতে সাহস পাবে না।

এনিয়ে কথা বলতে চেষ্টা করেও রিক্রুটিং এজেন্ট বাবুর সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। এমন ঘটনার বিচার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন টুঙ্গিপাড়া পৌর মেয়র শেখ তুজ্জাম্মেল হক টুটুল।

তিনি বলেন, অভিযুক্তদের যথাযথ বিচার না হলে আমাদের দেশ থেকে যেসব নারী কর্মী বিদেশ যেতে চান- তারা নিরুৎসাহিত হবেন।

এ ঘটনার বিচারসহ বিদেশে যাওয়া নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা দিতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তাকিয়ার স্বজন ও এলাকার মানুষ।