মুন্সিগেঞ্জ একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় দগ্ধ তার ছেলে, ছেলে বউ ও নাতি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত নারীর নাম সাহিদা বেগম (৫৫)। তিনি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার ইদ্রাকপুর এলাকার বাসিন্দা।
শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালে ভর্তি অন্য দগ্ধরা হলেন- ছেলে রিজভী আহামেদ (৩৫), ছেলে বউ রোজিনা আক্তার (৩১) ও নাতি রাইয়ান আহামেদ (৩)।
বার্ন ইন্সটিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক মো. তরিকুল ইসলাম, জানান, তার শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তার ছেলে রিজভীর ১০ শতাংশ, তার স্ত্রী রোজিনার ১২ শতাংশ ও সন্তান রাইয়ান আহামেদের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের শ্বাসনালীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, মরদেহ মুন্সিগঞ্জে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার ইদ্রাকপুর এলাকার ওই ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এসময় এলাকার মানুষ বাইরে বের হয়ে দেখেন, ভবনের পঞ্চম তলায় আগুন জ্বলছে। তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। পরে দগ্ধদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভবনটি নির্মাণকাজ কিছুদিন আগে শেষ হয়েছে। ভবনের মোট ১৪টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১২টি ভাড়া হয়েছে। পাঁচ তলার ১২ নম্বর ফ্ল্যাটে পরিবারসহ ভাড়া থাকেন রিজভী আহমেদ।
ছেলে রিজভী বলেন, আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম হঠাৎ দেখি আগুন। পরে সন্তানকে কোলে নিয়ে দ্রুত বের হতে হতে দগ্ধ হই। মা ছিলো রান্নাঘরে।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. আবু ইউসুফ বলেন, আমাদের ধারণা, কক্ষের সব দরজা-জানালা বন্ধ ছিলো। আগুন আবদ্ধ কক্ষ থেকে ব্যাপক শক্তি সঞ্চয় করে। পরিবারের কেউ যখন কোনো একটা দরজা খুলে, তখন কক্ষে অক্সিজেন প্রবেশ করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এ কারণে ওই ফ্ল্যাটসহ সম্পূর্ণ ভবনের সব কটি কক্ষ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আবুজাফর রিপন জানান, আমরা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। ইতিমধ্যে সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।