প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রচারে বাধা, মিথ্যা মামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন।
মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার অনুমতি ও সমর্থনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও উৎসবমুখর করতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছি। কিন্তু নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশকে নষ্ট করতে একটি মহল অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, কর্মীদের শারীরিক নির্যাতন, পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা ও পোস্টার লাগাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও চিহ্নিত সন্ত্রাসী দিয়ে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনায় লিখিতভাবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচনী অপরাধ অনুসন্ধান কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
২৪ ডিসেম্বর রাতে টাঙ্গাইল-৫ সদর উপজেলার জুগনী এলাকায় বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় টাঙ্গাইল সদর থানায় ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান রোকনের বাবা বাদি হয়ে ছয় জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২৫ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা সবাই সতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্যের কর্মী।
এর আগে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের যুগনী এলাকায় নৌকার মিছিলে হামলার অভিযোগ আনেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মামুনুর রশীদ।
তার দাবি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান এমপি সানোয়ার লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে ওই দাবি অস্বীকার করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এমপি সানোয়ার। তিনি বলেন, ওই ঘটনাটি আমার লোকজন ফেসবুকে লাইভ করেছে। তারাই পুলিশের সঙ্গে আলামত উদ্ধারে সহযোগিতাও করেছে। পরে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।
তার দাবি, হেয় করতে এমন নাটক সাজানো হয়েছে।
২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে টাঙ্গাইল-৫ আসনে এমপি নির্বাচিত হন ছানোয়ার হোসেন। তবে এবার তাকে সরিয়ে ওই আসনে মামুনুর রশিদকে নৌকার মাঝি করেছে আওয়ামী লীগ।