আর পি সাহা স্মরণে হাজারো মানুষের ঢল

দেশের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দানবীর ব্যক্তিত্ব রণদা প্রসাদ সাহা ও তার ছেলে ভবানীপ্রসাদ সাহার ৫৩তম অপহরণ দিবস উপলক্ষ্যে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভারতেশ্বরী হোমসে প্রার্থনা ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও সব স্তরের মানুষের জন্য আয়োজন করা হয়েছিলো বিশেষ ভোজ।

কুমুদিনী পরিবার এ প্রার্থনা ও স্মরণ সভার আয়োজন করে। ১৯৭২ সালের ৭ মে কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা (আর পি সাহা) এবং তার একমাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা রবিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী। এরপর থেকে আজও তাদের খোঁজ মেলেনি।

একাত্তরের একই দিনে পাকহানাদার বাহিনী ব্যাপক অত্যাচার, নির্যাতন এবং হত্যাযজ্ঞ চালায় মির্জাপুরের নিরীহ বাঙালির ওপর। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে মির্জাপুর হানাদার মুক্ত ও স্বাধীন হলেও সেদিনের ভয়াবহ স্মৃতির কথা মনে করে আজও মির্জাপুরবাসী শিউরে ওঠে।

R-P-Saha1

দিবসটি উপলক্ষে গত মঙ্গলবার সকালে কুমুদিনী পরিবার কুমুদিনী কমপ্লেক্সে ভারতেশ্বরী হোমসের প্রিন্সিপাল প্রতিভা মুৎসুদ্দি মিলনায়তনে প্রার্থনা ও স্মরণ সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহা।

কবি ও সাহিত্যিক এবং ভারতেশ্বরী হোমসের সিনিয়র শিক্ষিকা হেনা সুলতানার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গলের পরিচালক শিক্ষা ও একুশে পদক প্রাপ্ত ভাষা সৈনিক প্রিন্সিপাল প্রতিভা মুৎসুদ্দি, পরিচালক মতি সাহা, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. এম এ হালিম এবং ভারতেশ্বরী হোমসের প্রিন্সিপাল মন্দিরা চৌধুরী ও নার্সিং কলেজের প্রিন্সিপাল সিস্টার রীনা ক্রুস প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে কুমুদিনী পরিবারের সকল সদস্য, ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী নার্সিং স্কুল এন্ড করেজ, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও কুমুদিনী হাসপাতালের শিক্সার্তসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষে মির্জাপুর গ্রামবাসী এবং কুমুদিনী পরিবার মির্জাপুর গ্রামে প্রায় ১২ হাজার লোকজনের খাবারের ব্যবস্থাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

R-P-Saha2

অনুষ্ঠানে খান আহমেদ শুভ এমপি, পৌর সভার মেয়র সালমা আক্তার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

রণদা প্রসাদ সাহা বাংলাদেশের প্রখ্যাত সমাজসেবক ও দানবীর ব্যক্তিত্ব। আর পি সাহা নামেই তিনি সমধিক পরিচিত। তিনি বাংলাদেশে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গরিবদের কল্যাণার্থে ট্রাস্ট গঠন করেন।

রণদা প্রসাদ সাহা ১৮৯৬ সালের ১৫ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ছিলো টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে। বাবা অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন। তার বয়স যখন সাত বছর, তখন তার মা মারা যান। নিজ মেধা ও পরিশ্রমে বিত্তশালী হন রণদা। দেশের উন্নয়ন ও মানবতার কল্যাণে প্রচুর অর্থ দান করতে থাকেন।

১৯৩৮ সালে মির্জাপুরে ২০ শয্যাবিশিষ্ট ‘কুমুদিনী ডিসপেনসারি’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪২ সালে তার প্রপিতামহী ভারতেশ্বরী দেবীর নামে ‘ভারতেশ্বরী বিদ্যাপীঠ’ স্থাপন করে ওই অঞ্চলে নারী শিক্ষার সুযোগ করে দেন। ১৯৪৩ সালে টাঙ্গাইলে কুমুদিনী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

R-P-Saha3

বাবার নামে মানিকগঞ্জে দেবেন্দ্র কলেজ স্থাপন করেন। ১৯৪৭ সালে রণদা প্রসাদ তার সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ গরিবদের উদ্দেশ্যে ব্যয় করার জন্য সূচনা করেন কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল। মির্জাপুরে মহিলাদের ডিগ্রি কলেজ হিসেবে কুমুদিনী মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

পঞ্চাশের মন্বন্তরের সময় ছিল রণদা প্রসাদ সাহার অনন্য ভূমিকা। সামাজিক উন্নয়নে এমন অসংখ্য কাজের মাধ্যমে অসাধারণ ভূমিকা রেখে গেছেন তিনি। সমাজসেবায় অবদানের জন্য ১৯৭৮ সালে রণদা প্রসাদ সাহাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।