ফরিদপুরে মৃত্যু বেড়ে সাত, আহত অন্তত ৩০

ফরিদপুর সদর উপজেলার জোয়াইড় এলাকায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে যাওয়ার ঘটনায় আরো দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যু হলো সাত জনের। এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরো অন্তত ৩০ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সোয়া ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত সাত জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিন জন নারী এবং চার জন পুরুষ রয়েছে।

নিহতরা হলেন -ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের শেখরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা জোয়ার সরদার (৬৫), তার ছেলে ইমান সরদার (৩৫), নগরকান্দার কাঠিয়া বড়গ্রামের বাসিন্দা রাজীব খানের স্ত্রী দীপা খান (৩৪), ফরিদপুর সদরের চর চাঁদপুর গ্রামের বলরাম সরকারের স্ত্রী ভারতি সরকার (৪০), চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীটেক গ্রামের বাসিন্দা খালেক চৌধুরীর ছেলে আলম চৌধুরী (৪০), ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মহল্লার বাসিন্দা লতিফ ব্যাপারীর স্ত্রী ফজিরন নেসা এবং লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার পূর্ব ফকিরপাড়া গ্রামের জহিরউদ্দিনের ছেলে আজিবরউদ্দিন (৪৩)।

faridpur1

দুর্ঘটনাকবলিত বাসের আহত কয়েকজন যাত্রী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা বলেন, বাসটি তালমার মোড় পার হয়ে মহিলা রোড এলাকা থেকেই বেপরোয়া গতিতে চলতে শুরু করে। যাত্রীরা বার বার বলার পরও বাসচালক কারো কথা শোনেননি।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, বাসটি দ্রুত গতিতে এসে আরেকটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে সড়কের পাশের একটি পিলারে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায় এবং রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন বাসের গতি ৮০ কিলোমিটারের বেশি ছিলো। চালকের বেপরোয়া গতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

faridpur2

ফরিদপুর হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, গাড়িটি দ্রুত গতির ছিল একই সঙ্গে আরেকটি দ্রুত গতির যানকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে প্রশাসনের উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া পরবর্তীতে বিআরটিএর মাধ্যমে এককালীন অনুদান দেয়া হবে।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করবে। পরে তাদের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।