জোকারচর সেতু: নদীর বুকে শুধুই পিলারের কঙ্কাল, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের জোকারচরে নির্মাণাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ গার্ডার সেতুর কাজ দীর্ঘ চার বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। যমুনার চরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের এই সেতুটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২০ সালে চুক্তি হলেও ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মাত্র ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, যা এলাকাবাসীর যোগাযোগ ও অর্থনীতিকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, এলেঙ্গা-জোকারচর ভায়া দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ সড়কে ২৬৪ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিলো ৩৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা। পাঁচটি স্প্যান ও ৫৬টি পিলার বিশিষ্ট এই বিশাল অবকাঠামোর কাজ ২০২২ সালে শুরু হয়ে মাঝপথেই থমকে যায়। এরপর থেকে প্রকল্প এলাকায় কোনো শ্রমিক বা যন্ত্রপাতির উপস্থিতি নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হায়দার, সৈয়দ মজিবর এন্ড অবর্নী এন্টারপ্রাইজ (জেবি)’-এর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, প্রভাবশালী মহলের চাপ, এমনকি স্থানীয় খেয়া পারাপার সিন্ডিকেটের স্বার্থের কারণে প্রকল্পের গতি থমকে গেছে। এ ছাড়া নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিও কাজ বন্ধ হওয়ার একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সেতুটি নির্মিত হলে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের একটি বিকল্প পথ তৈরি হতো এবং যানজট নিরসনে বড়ো ভূমিকা রাখতো। বর্তমানে সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া, মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে চরাঞ্চলের হাজারো মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে খেয়া পারাপারে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করে যাতায়াত করতে হয়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।

এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০২৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালেও নদীর বুকে শুধু পিলারের কঙ্কাল দাঁড়িয়ে আছে। দ্রুত কাজ শেষ না হলে এই অঞ্চলের উন্নয়ন স্থায়ীভাবে ব্যাহত হবে।

এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ হোসেন স্বীকার করেন যে, প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ সঠিকভাবে করেনি। তিনি জানান, ২৫ শতাংশ কাজ হওয়ার পর প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।

উপজেলা প্রকৌশলী আরও বলেন, বাকি কাজের জন্য পুনরায় টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল এই টেন্ডার অনুষ্ঠিত হবে। নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি।

চরাঞ্চলবাসীর দাবি, এবার যেন শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবে সেতুর কাজ শেষ করে তাদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার অবসান ঘটানো হয়।