মেহেরপুরের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে হত্যার পর মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল তিনটার দিকে জেলার মুজিবনগর উপজেলার টুঙ্গি গোপালপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত গৃহবধূর নাম সুফিয়া খাতুন (৬০)। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা খেদের আলীর স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলে ঘরের ভেতর সুফিয়া খাতুনের মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এদিকে, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তাক্ত জখম রয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। স্বজনদেরও অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতেই মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিলো।
নিহতের স্বামী খেদের আলী অভিযোগ করে বলেন, জমিজমা নিয়ে তার আপন ভাই আখের আলীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। গত পাঁচ এপ্রিল প্রতিপক্ষরা দলবল নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে খেদের আলী বলেন, দুপুরে মাঠের কাজ শেষে বাড়ি ফিরে দেখি ঘরের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় আমার স্ত্রীর দেহ গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে। তার জোরালো দাবি, ওই বিরোধের জেরেই আমার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে।
খবর পেয়ে মুজিবনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্নের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।