মুকসুদপুরে মাংস বিক্রি নিয়ে ফেসবুকে বিভ্রান্তি, বৈঠকে সমাধান

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এক মাংস বিক্রেতাকে গরুর মাংস বিক্রি না করে শুধু শুকরের মাংস বিক্রির নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে সৃষ্ট তোলপাড়ের অবসান হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এক সমঝোতা বৈঠকে বিষয়টি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে সমাধান করা হয়েছে।

এর আগে, সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শকের বিরুদ্ধে এমন মৌখিক নির্দেশ দেওয়ার দাবি করে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন আলমগীর মোল্লা নামের এক মাংস বিক্রেতা। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, মুকসুদপুর উপজেলার দক্ষিণ জলিরপাড় বা জারের দক্ষিণ জলিরপাড় বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের সীমানার পাশে দীর্ঘ দুই বছর ধরে গরু জবাই ও মাংস বিক্রি করে আসছিলেন আলমগীর মোল্লা। তবে এর আগে সেখানে শুকুরের মাংস বিক্রি হতো, গরুর মাংস নয়। তার দাবি, গত ১৫ মে সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আওরঙ্গ জেব তাকে ওই স্থানে গরুর মাংস বিক্রি করতে নিষেধ করেন এবং সেখানে শুধু শুকরের মাংস বিক্রি হবে বলে জানান।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি ছড়ালে মঙ্গলবার (২৬ মে) বাজার এলাকায় গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ-এর উপস্থিতিতে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্থানীয় বাজার কমিটির সদস্যরা, মসজিদের ইমাম, অভিযোগকারী মাংস বিক্রেতা আলমগীর মোল্লাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো। পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে বিষয়টির সমাধান হয়েছে। কে গরু জবাই করবে আর কে শুকর জবাই করবে—এটা দেখার দায়িত্ব পুলিশের নয়। আমাদের কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেননি। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় আমরা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে বসেছিলাম। সেখানে অভিযোগকারী নিজেই বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। এখানে পুলিশের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান জানিয়ে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ জামান বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাই নিজ নিজ কাজ করবেন। যিনি গরুর মাংস বিক্রি করতেন তিনি বিক্রি করবেন, যিনি শুকরের মাংস বিক্রি করতেন তিনিও বিক্রি করবেন। এতে কোনো সমস্যা নেই। সবাইকে সহনশীল থেকে অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না করে চলতে হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভয় পেয়ে অভিযোগকারী মাংস বিক্রেতা আলমগীর মোল্লা জানান, সৃষ্ট সমস্যার সমাধান হয়েছে। তিনি বলেন, বুধবার (২৭ মে) থেকে আমি আবার ওই স্থানে গরুর মাংস বিক্রি শুরু করবো। প্রশাসন আমাকে আশ্বস্ত করেছে, কোনো বাধা এলে তারা সহযোগিতা করবে।